মালয়েশিয়া থেকে পণ্যবোঝাই কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে আসার সময় থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে একটি কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গভীর সমুদ্রে ডুবে যায়। পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি সিলয়েড এআরসি’ (MV Sealloyd Arc) নামের ওই জাহাজটিতে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে, যা এক বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে সবাইকে রক্ষা করেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে আন্দামান সাগরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জাহাজটির বাংলাদেশি এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে ২০০টির বেশি কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ফুকেট উপকূলে পৌঁছানোর পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে জাহাজটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে পড়ে এবং ভেতরে দ্রুত পানি ঢুকতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাহাজের ক্যাপ্টেন নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করেন। আলভি লাইন্স বাংলাদেশের অপারেশনাল ম্যানেজার বোরহান উদ্দিন জানান, সংকেত পাওয়ার পর থাই নৌবাহিনীর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া নাবিকদের বর্তমানে থাইল্যান্ডের ফুকেটের একটি হোটেলে নিরাপদে রাখা হয়েছে। তারা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে আছেন। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, জাহাজটিতে থাকা প্রায় ২০০টির অধিক কনটেইনারের বেশিরভাগই সমুদ্রে তলিয়ে গেছে। থাই কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, কিছু কনটেইনার ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, জাহাজটির ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে থাই নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে থাইল্যান্ডের পরিবেশ রক্ষা বিভাগও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।



