সকালে খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। কিশমিশ ভেজানো পানি শরীরের ভেতর থেকে রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। নিয়মিত এই পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই কমে আসে। একই সঙ্গে কিশমিশ হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে বিশেষভাবে পাওয়া যায় আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবার। এসব উপাদান শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে সারারাত পানিতে কিশমিশ ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে তা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভেজানো কিশমিশে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। পাশাপাশি কিশমিশ ভেজানো পানিও শরীরের জন্য সমানভাবে উপকারী।
কিশমিশে থাকা ক্যাটেচিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফ্রি র্যাডিকেলগুলোই বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ভেজানো কিশমিশ রাখলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সহায়তা করে।
এছাড়া কিশমিশ লেপটিন ও ঘ্রেলিন নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের নিঃসরণে সহায়তা করে, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। কিশমিশে থাকা বোরন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়, যা মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে পারে—বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে এটি উপকারী।
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া কমাতে কিশমিশ অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন বি–কমপ্লেক্স ও কপার নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। কিশমিশে থাকা ফেনল ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও কিশমিশ উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন–এ ও বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং চোখের ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে, সকালে ভেজানো কিশমিশ ও এর পানি নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীর ও মনের সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


