প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর দূরত্বের মাঝেও বন্ধুত্বের বন্ধনকে পরিবারে রূপ দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গেল শীতকালীন এক আয়োজনে। প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলনমেলায় দেশীয় ঐতিহ্য, খাবার আর আন্তরিকতার উষ্ণতায় জমে ওঠে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় পোশাকে সজ্জিত হয়ে উপস্থিত হন। অনেকেই পরেছিলেন মণিপুরী শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক। শীতের আমেজকে ঘিরে মূল আকর্ষণ ছিল পিঠা উৎসব—সকলেই মিলে পিঠা তৈরি, পরিবেশন এবং ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে ফিরে পেয়েছেন দেশের গ্রামীণ শীতের স্মৃতি।

পিঠার তালিকায় ছিল নানা রকম ঐতিহ্যবাহী স্বাদের সমাহার—ফুল পাককোন পিঠা, পাটালি গুড়ের ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, ম্যারা পিঠা, খোলা জালি পিঠা, জাল পুলি, তালের পিঠা, শুটকি পিঠা, নিমকি মিক্স, গাজরের হালুয়া (গোলাপ পিঠা) এবং ঝিনুক পিঠা। প্রতিটি পিঠাতেই ছিল ঘরোয়া স্বাদ ও যত্নের ছোঁয়া।
শুধু পিঠা নয়, সঙ্গে ছিল দেশীয় নানা পদও—ধনিয়া ভর্তা, লবণ ইলিশ ভর্তা, হাঁসের মাংস, গরুর মাংস, মোড়ক পোলাও, চিকেন তান্দুরি, হালাপেনো ও বিফ কিমা। বিশেষ আকর্ষণ ছিল রাকিব লেক থেকে ধরা বাফেলো মাছের পদ, যা অতিথিদের আলাদা করে দৃষ্টি কেড়েছে।
দিনভর আড্ডা, গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক টুকরো বাংলাদেশে। অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য, প্রবাসে রক্তের সম্পর্কের পরিবার না থাকলেও বন্ধুরাই এখানে হয়ে ওঠেন আপনজন। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
আয়োজকদের আশা, এমন মিলনমেলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং প্রবাসের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতির বন্ধন আরও গভীর করবে। শীতের এই আয়োজন যেন দেশীয় পিঠার মিষ্টি স্বাদে প্রবাস জীবনকে করে তোলে আরও উষ্ণ ও আনন্দময়।



