ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, অনলাইন মিটিং কিংবা বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে এই অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ধীরে ধীরে চোখের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিশক্তির সমস্যার পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠছে ডিজিটাল স্ক্রিন।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনে স্ক্রিন এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে চোখের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই–এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা চোখ সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা উচিত, যা ‘২০–২০–২০ রুল’ নামে পরিচিত। এতে চোখের পেশি আরাম পায়। স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে স্বাভাবিকের তুলনায় চোখের পলক কম পড়ে, তাই সচেতনভাবে ঘন ঘন পলক ফেলতে হবে। পাশাপাশি স্ক্রিনের অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা কমিয়ে ‘নাইট মোড’ ব্যবহার করলে চোখের চাপ কমে।
ঘরের আলো যেন সরাসরি স্ক্রিনে প্রতিফলিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। টানা দুই ঘণ্টা কাজ করার পর অন্তত ১৫ মিনিট চোখকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। অন্ধকারে কখনোই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার না করে পর্যাপ্ত আলোযুক্ত পরিবেশে স্ক্রিন দেখা উচিত। চোখ ও স্ক্রিনের দূরত্ব কমপক্ষে ২৫ ইঞ্চি বা এক হাতের সমান রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রয়োজনে নীল ও অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা চোখের ওপর ক্ষতিকর আলোর প্রভাব কমায়। নির্দিষ্ট সময় পরপর চোখে পানির ঝাপটা দিলে শুষ্কতা কমে এবং চোখ সতেজ থাকে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলালেবু চোখের কর্নিয়া ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও নিয়মিত এসব অভ্যাস মেনে চললে চোখের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। সচেতন ব্যবহারই পারে চোখকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে।



