বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হলেও বাস্তব জীবনে ডা. এজাজুল ইসলাম একজন পেশাদার চিকিৎসক, যার জীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। পর্দায় তাকে প্রায়ই হাসিখুশি ও স্বাচ্ছন্দ্যের চরিত্রে দেখা গেলেও, ব্যক্তিগত জীবনে শৈশবের স্মৃতিগুলো দারিদ্র্য, সংগ্রাম আর ত্যাগের গল্পে ভরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা তুলে ধরে জানান, পান্তা ভাত কীভাবে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল।
ডা. এজাজ বলেন, তার পরিবার কখনোই সচ্ছল ছিল না। মাসের প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন সকালবেলার নাস্তা হিসেবে পান্তা ভাতই ছিল ভরসা। ছোটবেলায় এক গামলা পান্তা খেতেন তিনি, কিন্তু বর্তমানে ডায়াবেটিসের কারণে অল্প পরিমাণে খেতে হয়। তার ভাষায়, পান্তা এমন একটি খাবার, যা তৃপ্তি পেতে হলে একটু বেশি করেই খেতে হয়, অথচ শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখন তা আর সম্ভব নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে পান্তা ভাত খাওয়ার সুযোগ বেশি হয় শুটিং স্পটে। বাসায় আলাদা করে পান্তার আয়োজন হয় না বললেই চলে। সম্প্রতি কিংবদন্তি অভিনেতা আফজাল হোসেনের একটি কাজে শুটিংয়ের সময় সকালের নাস্তায় পান্তা ভাত ছিল, তখন কয়েকদিন নিয়মিত পান্তা খাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাও তাকে আবার শৈশবের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
ডা. এজাজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় পান্তা খাওয়া ছিল বাধ্যবাধকতা, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটাই হয়ে উঠেছে প্রিয় খাবার। তখন অনেক সময় লবণের অভাব ছিল। সকালবেলার নাস্তায় লবণ ছাড়া পান্তা খাওয়ার দিনগুলোর কথাও তার স্পষ্ট মনে আছে। কাঁচামরিচ আর কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা মেখে খাওয়াটা তার আজও প্রিয়, যদিও লবণ ছাড়া সেই পান্তা ছিল অভাবেরই প্রতিচ্ছবি।
শৈশবের কষ্টের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, তার দাদি তিন দিন পরপর গ্রামের ছোট বাজারে যাওয়ার জন্য এক টাকা করে দিতেন। সেই এক টাকার সবজি দিয়েই তিন দিন সংসার চলত। আবার পরের তিন দিনের জন্য আরেক টাকা। এভাবেই কেটেছে অনেক দিন। তবে নদীর পাড়ে বাড়ি হওয়ায় মাছের অভাব ছিল না। নিজেরাই মাছ ধরতেন, যা পরিবারটির জন্য বড় আশীর্বাদ ছিল।
ডা. এজাজুল ইসলামের এই কথাগুলো শুধু একজন অভিনেতা বা চিকিৎসকের গল্প নয়, বরং সংগ্রাম করে উঠে আসা একজন মানুষের জীবনের বাস্তব দলিল। দারিদ্র্যের মাঝেও সাধারণ খাবারের সঙ্গে গড়ে ওঠা তার সম্পর্ক আজও তাকে শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।



