আপনি কি কখনো লক্ষ করেছেন, দোকান থেকে কেনা বিস্কুট বা চিপস বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায়? কিংবা কোনো অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে সামনে সাজানো নানা রকম স্ন্যাকস দেখে ‘আর একটু’ খেতে খেতে কখন যে সীমা ছাড়িয়ে যায়, তা নিজেও টের পান না? টিভি দেখার সময় এক প্যাকেট চিপস শেষ করার পর হঠাৎ আফসোস এসে ধরা দেয়—আমি কেন এত বেশি খেয়ে ফেললাম? এই অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সবারই পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে অতিরিক্ত খাওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি তা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এসিড রিফ্লাক্স, পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব ও পেটব্যথার মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু শারীরিক অস্বস্তিই নয়, অতিরিক্ত খাওয়ার পর অনেকের মধ্যে অনুশোচনা, বিস্ময় বা ভয়ও কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা কীভাবে, কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে খাচ্ছি—এই বিষয়গুলোর সঙ্গেই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা গভীরভাবে জড়িত। হাতের কাছে অনেক খাবার থাকা, ফ্রিজ ভরা নানা রকম খাবার কিংবা বিনামূল্যে বা কম দামে খাবার সহজলভ্য হলে লোভ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে কেনাকাটার সময় তালিকা তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
আবেগও অতিরিক্ত খাওয়ার একটি বড় কারণ। শুধু দুঃখ বা রাগ নয়, অনেক সময় অতিরিক্ত আনন্দ, উত্তেজনা কিংবা মানসিক চাপেও মানুষ বেশি খেয়ে ফেলে। তাই খাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি—আমি কি সত্যিই ক্ষুধার্ত, নাকি আবেগের বশে খাচ্ছি? একইভাবে রেস্তোরাঁয় বড় পরিমাণে পরিবেশন, টিভি দেখতে দেখতে বা ফোনে কথা বলতে বলতে অমনোযোগী খাওয়াও পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া সামনে একসঙ্গে অনেক রকম খাবার থাকলে ‘সব একটু করে’ খেতে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি খাওয়া হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে সব খাবার দেখে পছন্দের একটি বেছে নেওয়াই ভালো। হরমোনের ভারসাম্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেপটিন পেট ভরার সংকেত দেয়, আর ঘ্রেলিন ক্ষুধা বাড়ায়। পর্যাপ্ত পানি পান, শরীর আর্দ্র রাখা ও নিয়মিত ঘুম এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমের অভাব ও কঠোর ডায়েটিংও অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। হঠাৎ চিনি বা কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দিলে অনেক সময় ঝোঁকের বশে বেশি খেয়ে ফেলা হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন।
সবশেষে বলা যায়, অতিরিক্ত খাওয়া শুধু ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়। এর পেছনে পরিবেশ, আবেগ, অভ্যাস এবং হরমোন—সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে। সচেতনতা ও দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে এই সমস্যার বড় সমাধান হয়ে উঠতে।
সূত্র: আজকাল



