দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ (অ-২০) টুর্নামেন্টের ড্রয়ে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল টুর্নামেন্ট শেষে রোববার সাফের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ পড়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে একই ‘বি’ গ্রুপে। উপমহাদেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই গ্রুপিং ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া সাফ অ-২০ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে। টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ৩ এপ্রিল। এবারের আসরে সাফভুক্ত সাতটি দেশই অংশ নিচ্ছে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান—তিনটি দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে।
এদিকে ‘এ’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে স্বাগতিক মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপপর্ব শেষে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনালে উঠবে। বয়সভিত্তিক সাফ টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম আয়োজকের দায়িত্ব পেয়েছে মালদ্বীপ।
উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে সাফ টুর্নামেন্ট এর আগে দুইবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা সেবার আক্রমণাত্মক ও শৃঙ্খলিত ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
সাফের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো—অ-১৮, অ-১৯ ও অ-২০—যুব সাফ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন স্তরে আয়োজন করা হয়। অ-১৮ ও অ-১৯ পর্যায়ে ভারত দুইবার শিরোপা জিতলেও বাংলাদেশ এখনো ওই দুই স্তরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। যদিও চারবার ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের একই গ্রুপে পড়া দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাঠের লড়াইয়ে কে কাকে ছাড়িয়ে যাবে—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।



