চুল পড়া সমস্যায় ভোগা অনেকেই শেষ পর্যন্ত হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন। তবে অনেকেরই অজানা, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট আসলে একটি শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি, যার কিছু স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জটিলতা সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের পর সাধারণত মাথা, কপাল ও মুখমণ্ডলের আশপাশে ফোলাভাব বা পাফিনেস দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে চোখ কিংবা গালও সাময়িকভাবে ফুলে যায়। এটি খুব স্বাভাবিক একটি প্রতিক্রিয়া এবং সাধারণত এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই কমে আসে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এই ফোলাভাব এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
প্রক্রিয়াটি অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে করা হলেও এর প্রভাব কেটে গেলে ব্যথা ও যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। অনেকের কাছে এটি তীব্র অস্বস্তিকর মনে হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম কষ্ট হয়। ব্যক্তিভেদে ব্যথার মাত্রা ভিন্ন হলেও সাধারণত চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের ২ থেকে ৬ সপ্তাহ পর হঠাৎ করে চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, এমনকি প্রতিস্থাপন করা চুলও পড়ে যেতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘শক লস’ বলা হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই, কারণ সাধারণত তিন মাসের মধ্যেই ওই জায়গা থেকে আবার নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
চুল প্রতিস্থাপনের পর স্ক্যাল্পে জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই সংবেদনশীল ত্বক বা খুশকির সমস্যা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের ক্ষত শুকানোর সময় চামড়ায় টান, সুড়সুড় ভাব বা অস্বস্তি হওয়াটাও স্বাভাবিক। ঘাম বা ধুলাবালি জমলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এ ছাড়া যে জায়গা থেকে চুলের ফলিকল নেওয়া হয়, সেখানে ক্ষত বা ঘা হওয়াও স্বাভাবিক বিষয়। আর্দ্র আবহাওয়ায় ক্ষত শুকাতে সময় লাগতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। তাই ট্রান্সপ্লান্টের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা ও সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।



