হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে বিমানটির কিছু অংশ, যার বড় একটি অংশ এখনও মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে লোকজন ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখা যায়নি। ধোঁয়া সরে যাওয়ার পরও টানা প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানের আগুন জ্বলতে থাকে।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকে সেখানে গিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল আকস্মিক বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কেউ বিমানের কাছে যাওয়ার সাহস পাননি বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ অনেকে বলেন, বিস্ফোরণে প্রাণহানির পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। আজও জমিটির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসাবশেষের অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া মনে করেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে এবং বিধি মোতাবেক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জাদুঘরে সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে উপজেলা প্রশাসন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।



