আজকাল অনেকেরই দিন শুরু হয় ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। সারা দিন নোটিফিকেশন স্ক্রল করা এবং রাতে অন্ধকার ঘরে ফোনের আলোতে সময় কাটানো প্রায় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও, ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার শুধু আসক্তি বা মনোযোগের সমস্যা নয়; এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
ফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত দেয়। ঘুমের ঠিক আগে স্ক্রিন দেখলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং প্রকৃত ঘুমের সময় কমে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার করলে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিনিট কম ঘুম হয়। নরওয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিছানায় অতিরিক্ত এক ঘণ্টা স্ক্রিন ব্যবহার করলে অনিদ্রার লক্ষণ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং ঘুমের সময় প্রায় ২৪ মিনিট কমে যায়।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে ফোন ধরলেও ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং গভীর ও পুনরুদ্ধারমূলক ঘুমের ক্ষতি হয়। খারাপ ঘুম মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা বাড়ায় এবং রাত জেগে ফোন ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অস্থিরতা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, বিরক্তি ও মানসিক অস্বস্তি বেড়ে যায়। রাতের ফোন ব্যবহার শরীরকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে দেয় না, হার্ট রেট বাড়ায় এবং জেগে থাকার সময় বৃদ্ধি করে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ও গ্লুকোজ বিপাককে প্রভাবিত করে, যা ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ বিএমআই ও মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, দিনের বেলায় ঝিমুনি, খিটখিটে মেজাজ এবং উৎপাদনশীলতা কমে আসে।
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখা, নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার, রাতে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ চালু করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর ফোন হাতের নাগালের বাইরে রাখা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।



