সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যে, চলতি বছরের ১২ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় বেলা ২টা ৩৩ মিনিটে পৃথিবী সাত সেকেন্ডের জন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে এবং এতে প্রায় চার কোটি মানুষ মারা যেতে পারে। দাবি করা হচ্ছে, নাসার একটি গোপন নথিতে এই তথ্য উল্লেখ আছে এবং বিশ্বে ধনীরা নিরাপত্তার জন্য মাটির নিচে বাংকার তৈরি করছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুজব হিসেবে ঘোষণা করেছে। নাসার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কোনো সুইচ নয় যে চাইলেই বন্ধ করা যাবে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নির্ভর করে এর ভর, কেন্দ্র, ম্যান্টল, ভূত্বক, মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলের ওপর। এগুলো যদি হারায় না, তবে মাধ্যাকর্ষণ হারানো সম্ভব নয়।
এই গুজবের সূত্রপাত এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর পোস্ট থেকে, যেখানে বলা হয়েছিল দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি শূন্য করে দেবে। তথ্যটি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির ব্ল্যাকহোল বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম অলস্টন বলেন, এই তরঙ্গ এত দুর্বল যে এটি আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে গেলেও আমরা তা টের পাই না, এবং এটি মাধ্যাকর্ষণকে প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হবে। সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলেও পৃথিবীর মোট মাধ্যাকর্ষণের ওপর এর কোনো অস্বাভাবিক প্রভাব পড়বে না। এটি কেবল জোয়ার-ভাটার শক্তির ওপর সামান্য প্রভাব ফেলে।



