নারী বা পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই বিয়ের পর ধীরে ধীরে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা অনেকটাই স্বাভাবিক। এর পেছনে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারাজনিত নানা কারণ কাজ করে। বিয়ের পর অনেকেই আগের মতো নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারেন না। পাশাপাশি একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠায় খাবারের পরিমাণও বেড়ে যায়।
নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর হরমোনগত পরিবর্তন, বিশেষ করে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সময় ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রেও হরমোনের সামান্য পরিবর্তন, কর্মজীবনের চাপ এবং দায়িত্ব বৃদ্ধি ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে সময় কাটানোর অংশ হিসেবে তেল-চর্বিযুক্ত ও মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, রাতে দেরিতে খাবার গ্রহণ এবং রাত জাগার অভ্যাসও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
এ ছাড়া বিয়ের পরপরই আত্মীয়-স্বজনের বাসায় দাওয়াত কিংবা নিজের বাড়িতে নিয়মিত অতিথি আপ্যায়নের কারণে ভারী খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণ হয়। নতুন জীবনে স্থিতি আসায় অনেকেই আরামপ্রিয় হয়ে পড়েন এবং ‘কমফোর্ট ইটিং’ বা আনন্দের সঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
নারীদের জন্য ওজন বাড়ার একটি বড় কারণ হলো গর্ভধারণ। গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও অনেক ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর সেই ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বিয়ের পর ঘুমের সময় ও ধরনে পরিবর্তন আসে। অনিয়মিত বা অপর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ক্ষুধা বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।



