যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের স্বপ্নের ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড’ বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এক সময় মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করাকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজতম উপায় মনে করা হলেও, বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এখন শুধু বিয়ে করলেই গ্রিন কার্ডের নিশ্চয়তা মিলবে না।
একত্রে বসবাসের কঠোর শর্ত: ল ফার্ম ‘স্পার অ্যান্ড বার্নস্টাইন’-এর প্রখ্যাত অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টাইন জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (USCIS) এখন দম্পতিদের একত্রে বসবাসের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কাজের প্রয়োজনে, পড়াশোনা কিংবা আর্থিক সমস্যার কারণে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকলেও অভিবাসন বিভাগ তা গ্রহণ করছে না। তাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো—দম্পতিকে প্রতিদিন একই ছাদের নিচে বসবাস করতে হবে। আলাদা থাকার তথ্য পাওয়া গেলে সেই বিয়েকে ‘অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার কৌশল’ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হচ্ছে।
তদন্ত ও নজরদারি: ইউএসসিআইএস এখন শুধু নথিপত্র দেখেই সন্তুষ্ট হচ্ছে না, বরং আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে সরজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা সরাসরি আবেদনকারীর ঠিকানায় গিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। যদি দেখা যায় দম্পতিদের একত্রে বসবাসের প্রকৃত সদিচ্ছা নেই, তবে তাদের আইনি বৈধতা থাকলেও গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে।
উদ্বেগজনক দেশের তালিকায় নজরদারি: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ১৯টি দেশের নাগরিকদের কাছে থাকা গ্রিন কার্ড পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনায় গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ডিভি লটারি’ সুবিধাও স্থগিত করেছে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: আইনজীবী বার্নস্টাইন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যারা বিবাহিত কিন্তু বিশেষ কারণে একত্রে থাকছেন না, তারা যেন কোনো নথিপত্র জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য অসঙ্গতিও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন চিরতরে শেষ করে দিতে পারে।



