যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কঠোর ও ব্যয়বহুল এক নতুন নীতি ঘোষণা করেছে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন ভিসা পেতে বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
ভিসা বন্ডের লক্ষ্য ও শর্তাবলি: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ রোধ করাই এই পাইলট কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে কনস্যুলার অফিসাররা আবেদনকারীর প্রোফাইল মূল্যায়ন করে জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। জামানতটি মূলত তিন ধাপে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হবে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করা হয়েছে।
অর্থ ফেরত ও বাজেয়াপ্তের নিয়ম: এই জামানতের অর্থ স্থায়ী কোনো ফি নয়; নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তা ফেরতযোগ্য। যদি ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন কিংবা ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করেন, তবে তিনি টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) বা ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে পুরো অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ও বাধ্যবাধকতা: ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল (IAD)। এই নির্ধারিত প্রবেশপথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে নেপাল ও ভুটানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নীতির ফলে সাধারণ পর্যটক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন সফর আরও জটিল এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। অতীতে যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো এমন ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিকভাবে এই পদ্ধতি খুব একটা প্রচলিত নয়।



