বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অবিস্মরণীয় নাম, যার উত্থান ছিল অনেকটা নাটকীয়। ১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ছিলেন দুই সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত একজন সাধারণ গৃহবধূ। রাজনীতির প্রতি তাঁর কোনো প্রাথমিক আগ্রহ না থাকলেও, নেতৃত্বের সংকটে থাকা বিভক্ত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে নামতে বাধ্য হন। ১৯৮২ সালে সাধারণ কর্মী হিসেবে দলে যোগ দিয়ে নিজের দৃঢ়তা ও আপসহীন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৮৪ সালে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ছিল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘ ৯ বছরের আপসহীন সংগ্রাম। কোনো ধরনের সমঝোতা না করে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনি ইতিহাসে তাঁর রয়েছে এক অনন্য রেকর্ড—তিনি পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে মোট ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন।
দীর্ঘ ৪১ বছর বিএনপির হাল ধরে রাখা এই নেত্রী আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এক সময়ের লাজুক ও গৃহমুখী নারী থেকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির কাণ্ডারি হয়ে ওঠার এই সফর তাঁকে বিশ্বরাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল।



