শীতের স্নিগ্ধ কুয়াশা দেখতে মনোরম হলেও তা অনেক সময় আমাদের শ্বাসতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনে। বিশেষ করে বাংলাদেশে শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, ধুলাবালি এবং দূষণ কুয়াশার সঙ্গে মিশে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, কাশি কিংবা বুক ভার হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করে। তাই এই সময়ে ফুসফুসের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়াশাচ্ছন্ন শীতে সুস্থ থাকতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিয়মিত গভীর শ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়াম ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া শীতে পানির তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত, কারণ এটি শ্বাসনালির শ্লেষ্মা পাতলা রাখে। পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় হলুদ-আদা চা, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল এবং পুষ্টিকর খাবার রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফুসফুসের সুরক্ষায় ধূমপান বর্জন এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শীতের সকালে কুয়াশা যখন ঘন থাকে, তখন খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া এবং বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানিতে ভুগছেন, তাদের জন্য পরিষ্কার বাতাসে থাকা এবং দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলা জরুরি। সামান্য সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এই শীতে আপনার ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে শ্বাস নিতে সাহায্য করতে।



