ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও নিকোলাস মাদুরোর মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মাদুরোকে ক্ষমতা ছেড়ে সরে দাঁড়ানোর কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মাদুরোর জন্য এখন পদত্যাগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ, অন্যথায় তাকে আরও কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার সমান্তরালে মার্কিন কোস্টগার্ড সমুদ্রপথে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার অভিযান অব্যাহত রেখেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ভেনেজুয়েলার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও নৌ-তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মাদুরো সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান বজায় রাখবে।
এদিকে নিকোলাস মাদুরো ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত ভেনেজুয়েলাকে ভয় না দেখিয়ে নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ও দুটি জাহাজ জব্দ করেছে, যা ট্রাম্প নিজের দেশের কৌশলগত মজুতে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বনেতাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।



