কোয়েল পাখির ডিম আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এ কারণেই অনেক সময় অনেকে একসঙ্গে একাধিক কোয়েল ডিম খেয়ে থাকেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী কোয়েল ডিম খাওয়ার পরিমাণ ঠিক রাখা খুবই জরুরি। অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খাওয়ালে হজমের সমস্যা কিংবা অ্যালার্জির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী কোয়েল ডিম খাওয়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের কোয়েল ডিম দেওয়া উচিত নয়। ৬ থেকে ১২ মাস বয়সে সপ্তাহে ২–৩ দিন, দিনে মাত্র ১টি ভালোভাবে সেদ্ধ করা কোয়েল ডিম দেওয়া যেতে পারে। এ সময় কুসুম থেকে শুরু করাই উত্তম। ১ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ১–২টি, ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দিনে ২টি এবং ৭ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের দিনে ২–৩টি কোয়েল ডিম খাওয়ানো নিরাপদ বলে ধরা হয়।
কোয়েল ডিম খাওয়ানোর সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ডিম অবশ্যই ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। প্রথমবার খাওয়ানোর পর কয়েক দিন লক্ষ্য রাখতে হবে কোনো অ্যালার্জি—যেমন ত্বকে র্যাশ, বমি বা ডায়রিয়া হচ্ছে কি না। শিশুর জ্বর, ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা থাকলে আপাতত কোয়েল ডিম বন্ধ রাখা উচিত। এছাড়া শিশুদের জন্য লবণ বা মসলা ছাড়া ডিম খাওয়ানোই সবচেয়ে ভালো।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে কোয়েল ডিম শিশুদের জন্য বেশ উপকারী। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি১২, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক পরিমাণ ও নিয়ম মেনে খাওয়ালে কোয়েল ডিম শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়ক হতে পারে।



