যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার চালু করেছে ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ভিসা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার এই ভিসা প্রকল্পের ঘোষণা দেন। ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যে, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।”
গোল্ড কার্ড ভিসা কার্যত গ্রিন কার্ডেরই একটি উন্নত সংস্করণ, যেখানে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে আবেদনকারীদের। তবে এর জন্য আবেদনকারীদের গুনতে হবে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ কোটি ১৪ লাখ)। নতুন এই স্কিমের লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রতিভাবান ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং মার্কিন কোষাগারে বিপুল আয় নিশ্চিত করা। এটি ইবি-৫ ভিসার দ্রুত, লাভজনক এবং সহজতর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ভিসা কী?
এটি একটি নতুন অভিবাসন প্রকল্প, যেখানে ব্যক্তি বা কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলে তারা বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন। ইবি-৫ ভিসার জায়গায় গোল্ড কার্ড ভিসা কার্যকর করা হয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ব্যক্তি: যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও প্রবেশের যোগ্য হতে হবে।
কোম্পানি/কর্পোরেশন: তাদের বিদেশি কর্মচারীদের স্পনসর করার সুযোগ থাকবে।
পরিবার: স্বামী/স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন (অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য)।
খরচ কত?
প্রসেসিং ফি: প্রতি আবেদনকারীকে ১৫,০০০ ডলার (ফেরতযোগ্য নয়)।
ব্যক্তিগত বিনিয়োগ: কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার।
কর্পোরেট বিনিয়োগ: কর্মচারীর জন্য কমপক্ষে ২০ লাখ ডলার।
প্রথমে প্রসেসিং ফি প্রদান করার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আবেদনকারীর নথি যাচাই করবে। অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের টাকা জমা দিতে হবে। এটিকে মার্কিন সরকারের কাছে ‘উপহার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট trumpcard.gov-এ প্রবেশ করুন।
২. ভিসার ধরন নির্বাচন করুন—ব্যক্তিগত, কর্পোরেট বা প্ল্যাটিনাম।
৩. প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
৪. myUSCIS.gov অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
৫. ১৫,০০০ ডলার প্রসেসিং ফি প্রদান করুন।
৬. নথি যাচাইয়ের পর নির্ধারিত বিনিয়োগের টাকা জমা দিন।
অর্থপ্রদানের পদ্ধতি
ক্রেডিট কার্ড, মার্কিন অ্যাকাউন্টের ACH ডেবিট কিংবা আন্তর্জাতিক SWIFT ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া যাবে।
গোল্ড কার্ডের সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি স্থায়ী বসবাস (ইবি-১ বা ইবি-২ সমমান)।
দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ।
পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ।
ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিকত্বের সম্ভাবনা।
সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা
জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বা গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে গোল্ড কার্ড বাতিল হতে পারে।
কিছু দেশে এক বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সকল আবেদনকারীকে বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর মার্কিন কর দিতে হবে।



