দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রায় ধারাবাহিক অবদান রেখে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা। সেই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৫’। নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের জন্য ক্রীড়া ক্যাটাগরিতে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চার বিশিষ্ট নারীর হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক তুলে দেন।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন—
রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা–গবেষণা)
কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার–শ্রম অধিকার)
নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)
ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ–ক্রীড়া)
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল দলীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কার পেলেও, ব্যক্তিগতভাবে এই সম্মাননা পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাঙ্গামাটির মেয়ে ঋতুপর্ণা। তিনি বলেন, “প্রতিটি পুরস্কারই আমার জন্য গর্বের। একুশে পদক পেয়েছিলাম দলীয়ভাবে—এবার ব্যক্তিগতভাবে রোকেয়া পদক পেলাম, যা আমার কাছে বিশেষ সম্মান।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রথম কোনো ফুটবলার রোকেয়া পদক পেল। এটি আমার জীবনের বড় অর্জন। এই সম্মান আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে।”
জাতীয় দলে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত খেলছেন ঋতুপর্ণা। বাংলাদেশের জার্সিতে এ পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন। সাফ–২০২৪ টুর্নামেন্টে হয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দুইবারের শিরোপা জয়ের পেছনেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে অংশ নিতে বাংলাদেশ নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার পরিকল্পনায়ও তিনি দলের অন্যতম ভরসা।
ঋতুপর্ণার এই সম্মান অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; বরং বাংলাদেশ নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক উজ্জ্বল স্মারক।



