ডিসেম্বর—বাঙালির বিজয়ের মাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই মাসেই বাঙালি অর্জন করে স্বাধীনতা। সেই বিজয়ের স্মারক, তাজা রক্তের প্রতীক—লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। এই মাসে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়ির ছাদ থেকে যানবাহন—সবখানেই উড়তে থাকে এই গৌরবের পতাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় জাতীয় পতাকার চাহিদা।
প্রতি বছর ডিসেম্বর এলেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসেন জাতীয় পতাকা বিক্রি করতে। তবে সবার দাবি, এটি শুধু ব্যবসা নয়; মানুষের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। তবুও এবার আগের তুলনায় বিক্রি কমে যাওয়ায় হতাশ অনেকেই।
ঢাকার বাংলামটরে পতাকা বিক্রি করতে আসা সাহাবুদ্দিন ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি কমেছে অনেকটা। তিনি বলেন, “বিজয়ের মাস এলেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে পতাকা বিক্রি করি। কিন্তু এবার ব্যবসা খারাপ—প্রতিদিন ৫–৬টির বেশি পতাকা বিক্রি হয় না। মানুষ কিনছে না।”
গত ৩০ বছর ধরে তিনি লম্বা বাঁশে বড় থেকে ছোট নানা আকারের লাল-সবুজের পতাকা সাজিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। তার সঙ্গে পাওয়া যায় হাত ও মাথায় বাঁধার ব্যাজ, লাল-সবুজের স্টিকারসহ আরও বিভিন্ন জাতীয় সামগ্রী।
বিজয় মাস ছাড়া অন্য সময় কী কাজ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অন্য সময়ে অন্য কাজ করি। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে পতাকার চাহিদা বেশি থাকে, তাই এই কাজ করি। মাসজুড়ে খদ্দেরের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে দু’জন মানুষের মাঝে যদি বিজয়ের চেতনা ছড়াতে পারি, তাতেই আমার সার্থকতা।”
একজন স্থানীয় ক্রেতা জানান, “যারা বিজয়ের মাসে ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন—তারা মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের সাধুবাদ জানাই।”



