র্যাঙ্কিং ও অভিজ্ঞতায় বেশ এগিয়ে থাকা আজারবাইজানের বিপক্ষেও দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। লড়াই করে ম্যাচের বড় একটি সময় নিজেদের ধরে রাখলেও শেষ মুহূর্তে এসে সেটাই ভেঙে যায়। মঙ্গলবার জাতীয় স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ৮৪তম মিনিটে গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে হারতে হয় লাল–সবুজদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দেখায় শক্ত মনোবল। তবে ১৯তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে হেডে গোল করে আজারবাইজানকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক সেভিঞ্জ জাফারজাদে। গোল হজম করেও ভেঙে না পড়ে আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখে স্বাগতিকরা। ৩৩তম মিনিটে একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হলেও পরের মিনিটেই সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার মাঝে বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন মারিয়া মান্ডা। ১–১ সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই অগোছালো আক্রমণ চালালেও ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশই। ৫২তম মিনিটে ঋতুপর্ণার ক্রসে মনিকা চাকমার হেড প্রতিপক্ষের বাধায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আজারবাইজান। ৬১ ও ৭৩তম মিনিটে গোলরক্ষক রূপনা চাকমা ও ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। তবে ৮৪তম মিনিটে রক্ষণের ভুলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়—বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে দ্রুত শট নিয়ে জালে বল পাঠান মানিয়া ইসরা।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়েও সমতায় ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আজারবাইজান। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় দুটি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ—প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ১–০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আজারবাইজানের কাছে ২–১। যদিও কোচ পিটার বাটলারের কাছে ফলাফলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলকে প্রস্তুত করা এবং নতুন পরিকল্পনা পরীক্ষায় আনা। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে মনিকা–মারিয়াদের লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা রেখেছে।



