ওজন কমাতে হলে ভাত বা রুটি খাওয়া বন্ধ করতে হবে—এ ধারণা দীর্ঘদিনের। তবে ফিটনেস কোচ ও স্পোর্টস নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ জিত সেলালের মতে, এটি সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর যুক্তি—কার্বোহাইড্রেটকে ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং ওজন কমে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে, খাবার বাদ দেওয়ার ফলে নয়।
বর্তমান সময়ে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, ডিটক্স ড্রিঙ্কসহ নানা ট্রেন্ড জনপ্রিয় হলেও বিভ্রান্তি একই থাকে—কার্ব খাব কি খাব না? হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিত সেলাল বলেন, ভাত বা রুটি খাওয়া যাবে না—এটি বহু পুরোনো এবং ভুল ধারণা। শরীরের প্রধান শক্তির উৎস কার্বোহাইড্রেট, তাই এটি বাদ দিলে শরীর যথেষ্ট শক্তি পাবে না। কেবল কার্ব কমিয়ে ওজন কমানো সম্ভব—এমন দাবি ভিত্তিহীন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের তিন পরামর্শ
১. ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করুন:
আপনি যত ক্যালরি খাবেন, শরীরকে তার চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচ করতে হবে। ফ্যাট কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এটি।
২. যথেষ্ট প্রোটিন গ্রহণ করুন:
ওজন কমানোর সময় মাংসপেশি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। প্রোটিনের ঘাটতি হলে শরীর ফ্যাট নয়, বরং পেশি ভাঙতে শুরু করে।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন:
প্রতিদিন হাঁটা, ব্যায়াম বা যেকোনো শারীরিক কার্যক্রম মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ফ্যাট কমাতে সহায়তা করে।
জিত সেলাল বলেন, এই তিন অভ্যাস বজায় রাখতে পারলে ভাত বা রুটি খাওয়ার কারণে ওজন কমার প্রক্রিয়া থেমে যাবে—এমন আশঙ্কা নেই। তাঁর মতে, কঠোর খাদ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শরীর দুর্বল করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধারাবাহিকতা। সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল তথ্য অনুসরণ না করে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



