বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর উত্তেজনা যখন চরমে, তখনই ক্রিকেটাঙ্গনে নেমে এলো এক অশনি সংকেত। বহুল প্রতীক্ষিত বিপিএলের ১২তম আসরের নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে দেশের ৮ জন ক্রিকেটারকে, যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ। ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের নাম নিলাম থেকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এক নীরব বার্তা দিল বিসিবি। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, বিসিবির অধীনস্থ সকল কার্যক্রম থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। যদিও বিসিবি সরাসরি কারো নাম প্রকাশ না করার নীতি নিয়েছে, কিন্তু নিলামের তালিকা থেকে তাদের অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে দিচ্ছে, ফিক্সিংয়ের কালো থাবায় কারা জড়িয়েছেন।
বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এন্টি করাপশন ইউনিট) শুধু এই ৮ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেই নয়, আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে একটি সূত্র থেকে আসা খবর। সেই সূত্র জানাচ্ছে, এই ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন একাধিক অফিশিয়াল ও সাংবাদিকের নামও! অ্যালেক্স মার্শালের দীর্ঘদিনের তদন্তে এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিসিবি এবার কোনো ছাড় দিতে নারাজ।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চারজন ক্রিকেটার। তাঁরা হলেন— জাতীয় দলে নিয়মিত আসা-যাওয়ার পথে থাকা এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সানজামুল ইসলাম, এবং শফিউল ইসলাম।
জাতীয় তারকারা ছাড়াও, অভিযুক্তদের তালিকায় আরও আছেন আলাউদ্দিন বাবু, নিহাদুজ্জামান, মিজানুর রহমান, মনির হোসেন খান এবং একজন বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটার। এই মোট ৯ জনের নাম শনিবার (২৯ নভেম্বর) দেওয়া বিসিবির চূড়ান্ত নিলাম তালিকায় পাওয়া যায়নি।
বুলবুলের বোর্ড আগেই ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিল। তবে, এবার ‘সাইলেন্ট ব্যান’-এর কৌশল নিয়ে বিসিবি বুঝিয়ে দিল, যারা ক্রিকেটের পবিত্রতা নষ্ট করবে, তাদের পরিণতি কী হতে পারে। এই কঠোর সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, বিপিএলের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিসিবি কতটা বদ্ধপরিকর।



