অস্কার–২০২৬কে সামনে রেখে অ্যাকাডেমি ঘোষণা করেছে Documentary, Animation ও International Feature—এই তিন প্রধান ক্যাটাগরির যোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকা। প্রতি বছর এই সময়টিকে যেন বিশ্ব সিনেমার এক মহোৎসব বলা যায়, যেখানে নানা সংস্কৃতি, ভাষা ও গল্প এক মঞ্চে মিলিত হয়। এ বছরও তিন শতাধিক চলচ্চিত্র এই দৌড়ে রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী ইতিহাস, মানবাধিকার, যুদ্ধ ও কল্পলোকের বহুমাত্রিক গল্পকে তুলে ধরেছে।
আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে এবার স্থান পেয়েছে ৮৬টি দেশ ও অঞ্চলের চলচ্চিত্র। নরওয়ের Sentimental Value, স্পেনের Sirât, ব্রাজিলের The Secret Agent, টিউনিসিয়ার The Voice of Hind Rajab—প্রতিটি সিনেমাই নিজস্ব সংস্কৃতি, আবেগ ও ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করছে। এর ভিড়ে বাংলাদেশের গর্ব “A House Named Shahana” যোগ্যতার তালিকায় জায়গা পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হয়েছে।
অ্যানিমেশন বিভাগে রয়েছে ৩৫টি চলচ্চিত্র—যার মধ্যে রয়েছে ডিজনির আলোচিত Zootopia 2, কোরিয়ার K-Pop Demon Hunters এবং জাপানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী Infinity Castle। বড় স্টুডিওর জনপ্রিয় কাজের সঙ্গে এশিয়ার নতুন ও পরীক্ষাধর্মী অ্যানিমেশনও জায়গা পেয়েছে তালিকায়, যা এই বিভাগকে করেছে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামুখর।
ডকুমেন্টারি বিভাগে রেকর্ড ২০১টি ফিচার যুক্ত হয়েছে। সামাজিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক সংঘাত, ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকে শুরু করে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানবিক বিপর্যয়ের নানা গল্প স্থান পেয়েছে এই তালিকায়। নজর কাড়ছে Ai Weiwei’s Turandot এবং The Age of Disclosure—যা ইতোমধ্যেই আলোচনায় রয়েছে। ডিসেম্বরেই প্রকাশিত হবে ১৫টি শর্টলিস্ট, যা মনোনয়নের লড়াইকে আরও বেগবান করবে।
অ্যাকাডেমির সদস্যরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগে সিনেমা দেখার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত। কিছু বিভাগে রয়েছে কঠোর ভিউইং রিকোয়ায়ারমেন্ট—সিনেমা সম্পূর্ণ না দেখলে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ডিসেম্বরের মধ্যেই তৈরি হবে শর্টলিস্ট, আর চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে আগামী ২২ জানুয়ারি। এভাবেই শুরু হয়েছে অস্কার–২০২৬-এর যাত্রা—আগামীতে আসছে আরও তালিকা, মনোনয়ন এবং প্রতীক্ষিত রেড-কার্পেট রাত।



