সরকার দেশজুড়ে ক্লোন করা, অবৈধভাবে আমদানি ও চোরাচালানকৃত মোবাইল ফোন নিষ্ক্রিয় (বন্ধ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, অবৈধ মোবাইল ফোনের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ জড়িত থাকে—যেমন সিমের ভুল রেজিস্ট্রেশন, বাল্ক এসএমএসের মাধ্যমে জুয়ার প্রচার, এমএলএম প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিং, প্রযুক্তিগত রয়্যালটি ফাঁকি, আয়কর ও শুল্কচুরি, ভারত–চীন থেকে আনবক্সড ফোন চোরাচালান, বিমানবন্দরের লাগেজ পার্টি ও সীমান্তপথে চোরাপাচার। এসব অপরাধ দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিডা, মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি, ব্যাংকিং খাত ও এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—কোনো ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়, বরং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া ও বৈধ আমদানি উৎসাহিত করাই লক্ষ্য। অবৈধ ফোন আনা বা বিক্রি বন্ধ হবে, কিন্তু বৈধ উৎপাদন ও আমদানিতে কোনো বাধা থাকবে না।
ফয়েজ আহমদ বলেন, বর্তমানে একটি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে লাখো ফোন তৈরি করে দেশে ঢুকানো হচ্ছে, যা প্রতিরোধে এনইআইআর সিস্টেম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। লাগেজ পার্টি, ভুয়া এইচএস কোড ও কেজি দরে চোরাচালানের দিন শেষ হবে। ইতোমধ্যে আমদানি শুল্ক কমাতে এনবিআরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং দেশীয় মোবাইল নির্মাতাদের দাম কমানোর জন্য মৌখিক অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা বৈধ ফোন সহজে সাশ্রয়ী দামে পেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে নিয়ম মেনে আনানো ফোন রেজিস্ট্রেশন করলে কোনো ঝামেলা হবে না। একজন প্রবাসী সাধারণ নিয়মে এক বা দুটি ফোন বিনা সমস্যায় আনতে পারবেন। দুটির বেশি আনলে এনবিআরের পূর্বনির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে। রেজিস্ট্রেশন, ডি-রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করতে BTARC কাজ করছে। একই সঙ্গে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—১৬ ডিসেম্বরের আগে সক্রিয় সব ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হিসেবে নিবন্ধিত হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ক্লোন, অবৈধ আমদানি ও চোরাচালানকৃত ফোন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।



