বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক যুগের অন্যতম ধারক-বাহক তামিম ইকবাল এবার সরে দাঁড়ালেন বিপিএল থেকে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই প্রতিটি আসরে তার উপস্থিতি ছিল নিশ্চিত—ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্বগুণ এবং দলের প্রতি অসাধারণ অবদান তাকে বিপিএলের অন্যতম মুখ করে তুলেছিল। তবে এবার স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি, প্রস্তুতি ঘাটতি এবং দলগত অনিশ্চয়তাকে সামনে রেখে নিজেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম।
রোববার (১৬ নভেম্বর) ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আসন্ন বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে নাম প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। ২৩ নভেম্বর যে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানে তার নাম আর থাকছে না। শাহরিয়ার নাফীসকে দেওয়া অনুরোধ জানিয়ে তামিম বলেছেন, “হ্যাঁ, আমি বিপিএলে খেলছি না। আমি অনুরোধ করেছি যেন আমার নাম ড্রাফট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।”
২০১২ সালে বিপিএলের সূচনা থেকে প্রতিটি আসরে খেলেছেন তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে ফরচুন বরিশাল টানা দুই শিরোপা জিতেছে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তিনি অন্যতম সফল ক্রিকেটার। তবুও এবারের সিদ্ধান্তটিকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বলা যায় না। গত বছরের মার্চে হৃদরোগজনিত সমস্যার পর থেকে পুনর্বাসন আর স্বাস্থ্যসুরক্ষা তামিমের জীবনে নতুন অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া তিনি যে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছিলেন—ফরচুন বরিশাল—তারা স্বল্প প্রস্তুতির কারণে এ মৌসুমে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তামিমের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্রিকেটের প্রশাসনিক দিকেও তার আগ্রহ বেড়েছে। বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরলেও বোঝা যায়, তার ভাবনা এখন মাঠের বাইরেও বিস্তৃত।
৩৬ বছর বয়সী তামিম কবে আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন—এটি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিপিএল থেকে সরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টেনে দিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটে যাঁর ব্যাটিং ছিল প্রেরণা, সেই তামিম এখন নিজের পরবর্তী পথ নির্ধারণে সময় নিচ্ছেন—হোক তা মাঠে, প্রশাসনে, কিংবা উভয় ক্ষেত্রেই।



