গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ক্ষীণদৃষ্টিতে (মায়োপিয়া) ভুগতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা শুধু দৃষ্টিশক্তিকেই নয়, বরং গ্লুকোমা ও ছানি পড়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। অথচ চোখের স্বাস্থ্য এখনও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের তালিকায় উপেক্ষিত রয়ে গেছে। গবেষণায় জানা যায়, অসংশোধিত দৃষ্টি সমস্যার কারণে প্রতিবছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে চোখের যত্নে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে জাপানের প্রতিষ্ঠান রোহটো ফার্মাসিউটিক্যাল। ১৯০৯ সালে প্রথম চোখের ড্রপ চালুর পর থেকেই তারা চোখের যত্নে বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। বর্তমানে কোম্পানির বিক্রয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে চোখের যত্ন পণ্য থেকে। মৌসুমী অ্যালার্জি, বার্ধক্যজনিত দৃষ্টি সমস্যা কিংবা ডিজিটাল চোখের চাপ—সব ক্ষেত্রেই রোহটো অবিরাম উদ্ভাবনে কাজ করছে।
বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি সমস্যার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১.১ বিলিয়ন মানুষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১.৮ বিলিয়ন হতে পারে। ডিজিটাল ডিভাইসের অতিনির্ভরতা চোখের ক্লান্তি, শুষ্কতা, ঝাপসা দৃষ্টি ও মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৬৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডিজিটাল চোখের চাপের লক্ষণ অনুভব করেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যে অদূরদর্শিতা (মায়োপিয়া) এখন বৈশ্বিক মহামারির রূপ নিয়েছে—প্রতি তিনজনের একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকুলার অবক্ষয় (AMD)-এর মতো সমস্যা ২০ কোটিরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করছে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, গবেষণায় দেখা গেছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা ও জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, যা আলঝাইমার বা ডিমেনশিয়া রোগের প্রাথমিক ঝুঁকি চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে।
ডিজিটাল হেলথে নতুন যুগ
জাপানে ৪০ শতাংশ বাজার শেয়ার ধরে রাখা রোহটো এখন চোখের যত্নের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করছে। এক্সপো ২০২৫-এ ওসাকার হেলথকেয়ার প্যাভিলিয়নে তারা প্রদর্শন করেছে “ফিউচার আইকেয়ার স্টেশন”, যেখানে দর্শনার্থীরা চোখের ক্লান্তি, মানসিক চাপ ও জ্ঞানের সক্ষমতার মধ্যে সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন। প্রদর্শনীতে ছিল মিস্ট-টাইপ আইড্রপ, চোখের বয়স নির্ধারণের ডিজিটাল স্ক্যান, কাস্টম-ব্লেন্ডেড ড্রপ, এমনকি ভিআর ও নিউরোফিডব্যাক ডিভাইস, যা মনোযোগ বাড়াতে ও দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
রোহটোর এক্সপো প্রকল্প ব্যবস্থাপক কেন উমেমুরা বলেন, “আমরা চোখের গবেষণার বীজ বপন করছি। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগুলোর বাস্তব প্রয়োগ আমরা এক্সপোতে প্রদর্শন করেছি।”
পুনরুৎপাদনমূলক চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা
চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি রোহটো এখন রিজেনারেটিভ মেডিসিন বা পুনরুৎপাদনমূলক চিকিৎসা নিয়েও কাজ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা কোষ-ভিত্তিক থেরাপি নিয়ে গবেষণা করছে। ২০২৪ সালে জাপানে একটি বিশেষায়িত গবেষণাগার চালু করেছে, যেখানে প্রদর্শিত হয়েছে এআই-চালিত কোষ-সংস্কৃতি যন্ত্র, যা ভবিষ্যতে জয়েন্টের ব্যথা, ত্বক ও চুলের পুনরুৎপাদনে ব্যবহার হতে পারে।
উমেমুরা বলেন, “ভাবুন, সকালে ক্লিনিকে গিয়ে নিজের কোষ সংগ্রহ করলেন, আর বিকেলে সেই কোষ দিয়েই চিকিৎসা নিলেন—আমরা সেই ভবিষ্যতের দিকেই এগোচ্ছি।”
ভবিষ্যতের দৃষ্টি
রোহটো ফার্মাসিউটিক্যাল বিশ্বাস করে, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে প্রতিরোধ, সহজলভ্যতা ও উদ্ভাবনের ওপর। শতবর্ষের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতমুখী গবেষণার সমন্বয়ে তারা কাজ করছে এমন এক পৃথিবীর জন্য, যেখানে পরিষ্কার ও সুস্থ দৃষ্টিশক্তি সবার নাগালের মধ্যে থাকবে।


