আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই কাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ফোন স্ক্রোলিংয়ের কারণে রাতের ঘুম কমিয়ে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়—এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখার এক অপরিহার্য প্রক্রিয়া।
নিউরোলজিস্ট ডা. রিতু ঝা জানিয়েছেন, গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম সক্রিয় থাকে, যা মস্তিষ্কের বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে। এই সময় ক্ষতিকর প্রোটিন যেমন বিটা-অ্যামাইলয়েড দূর হয়—যা আলঝেইমার’স রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই পরিশোধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। এমনকি ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই প্রভাব দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, কার্ডিওলজিস্ট ডা. প্রভীন কুলকার্নি বলেন, ঘুম শরীরের কার্ডিওমেটাবলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের ঘাটতি হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়—ক্ষুধা হরমোন (ঘ্রেলিন) বেড়ে যায় এবং সাচার হরমোন (লেপ্টিন) কমে যায়। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা, ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তচাপ বাড়ে। পাশাপাশি, স্ট্রেস হরমোন করটিসল অতিমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে শরীরে প্রদাহ, উচ্চ রক্তে গ্লুকোজ এবং ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক বা অনিয়মিত হার্টবিটের কারণ হতে পারে।
ডা. কুলকার্নির মতে, নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং হৃদযন্ত্রকে চাপমুক্ত রাখে।
ঘুমের ঘাটতির ক্ষতি:
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ
তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা শুধু বিশ্রাম নয়—এটি আপনার মস্তিষ্ক, হার্ট ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য জীবনরক্ষাকারী অভ্যাস।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


