সম্পর্ক শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো, হাসি-আনন্দ ভাগাভাগি করা বা ভালো মুহূর্ত তৈরি করার বিষয় নয়—এটি পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং বিশ্বাসের এক সূক্ষ্ম বন্ধন। কিন্তু অনেক সময় ছোট ছোট আচরণই জানিয়ে দেয় সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অস্বাস্থ্যকর দিকগুলো। প্রথমে এসব বিষয় তেমন গুরুত্ব না পেলেও, সময়ের সঙ্গে তা সম্পর্কের ভেতরে বিষ ঢেলে দেয়। তাই কিছু আচরণ সময়মতো চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে সম্পর্ককে সঠিক পথে রাখা যায়।
প্রথমত, সবসময় নিজের মতো চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক। সঙ্গী যদি নিজের চিন্তা বা সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা না পান, তবে সম্পর্ক ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়, যা ভালোবাসার পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, বিপদে পাশে না থাকা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় সম্পর্কের একপাক্ষিকতার। সুখের সময়ে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু দুঃসময়ে কে থাকে সেটাই ভালোবাসার আসল পরীক্ষা।
তৃতীয়ত, ঈর্ষান্বিত মনোভাব সম্পর্কের বিষ। যদি সঙ্গী আপনার সাফল্যে খুশি না হয়ে রাগ বা হতাশা প্রকাশ করেন, তবে বুঝবেন, সেই সম্পর্ক পারস্পরিক নয়। ভালোবাসা মানে একে অপরের উন্নতিতে আনন্দ পাওয়া, প্রতিযোগিতা নয়। চতুর্থত, ভুল স্বীকার না করা সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। নিজের ভুল বুঝে সাহসের সঙ্গে ‘দুঃখিত’ বলতে পারা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।
এছাড়া, সবসময় তর্কে জিততে চাওয়া মানে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করা। সম্পর্ক হলো বোঝাপড়ার জায়গা, জেতার নয়। সর্বশেষে, উপহার না পেলে মন বদলে যাওয়া সম্পর্কের স্বার্থপর দিক প্রকাশ করে। ভালোবাসা কখনো বস্তুগত নয়, এটি অনুভূতি ও যত্নের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
সুতরাং, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলে এসব ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সময়মতো চিনে নেওয়া জরুরি। সম্পর্কের সৌন্দর্য থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ও আন্তরিকতায়—নিয়ন্ত্রণ, ঈর্ষা বা স্বার্থে নয়।



