আমাদের চারপাশে তাকালে দেখা যায়, নাক খোঁটার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কেউ গোপনে করেন, কেউ আবার প্রকাশ্যেই। শৈশব থেকে তৈরি হওয়া এই অভ্যাসকে অনেকেই হালকা বিষয় ভেবে গুরুত্ব দেন না। অথচ এটি কেবল সামাজিকভাবে বিব্রতকর ও দৃষ্টিকটু নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও ভয়ঙ্কর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাকে আঙুল দেওয়ার এই বদঅভ্যাস সংক্রমণ ছড়ানো ছাড়াও মস্তিষ্কের জটিল রোগের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নাক খোঁটার সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো মারাত্মক স্নায়ুরোগের যোগ রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন ঘন নাক খোঁটার অভ্যাস মস্তিষ্কে “টাও” (Tau) নামের একটি ক্ষতিকর প্রোটিন প্রবেশ করাতে পারে। এই প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করলে নিউরোইনফ্লেমেশন বা স্নায়ুর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা থেকে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরের বাইরে থেকে আসা প্যাথোজেন নাকের মাধ্যমে মস্তিষ্কে ঢুকে যায়। নাক হয়ে ওঠে সংক্রমণের সবচেয়ে সহজ প্রবেশপথ।
কেন ঝুঁকি বাড়ে?
অনেকেই নাক খোঁটেন ময়লা পরিষ্কারের জন্য। কিন্তু সাধারণত এই কাজ করা হয় ময়লা হাতে, আর হাত ধোয়ার অভ্যাসও থাকে না। এতে নাকের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া জমে এবং তা সহজেই সংক্রমণ ঘটায়। সংক্রমণ দুইভাবে ছড়ায়—
১. তলের মাধ্যমে (Surface Transmission)
২. বায়ুর মাধ্যমে (Airborne Transmission)
তলের মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ডিমেনশিয়ার জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষণার ফলাফল
বায়োমলিকিউল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নাকের ভেতর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর পেছনে আমাদের আঙুলের ভূমিকা বড়। এসব ব্যাকটেরিয়াই পরবর্তীতে স্নায়ুর প্রদাহ সৃষ্টি করে। গবেষকরা মনে করেন, যেমনটা কোভিডের সময় পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বেড়েছিল, সেই সচেতনতা বজায় রাখলেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।



