মনুমেন্টালের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে দর্শকদের আবেগ, পরিবারের উপস্থিতি আর মেসির দুটি দুর্দান্ত গোল—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার মাটিতে লিওনেল মেসির শেষ অফিসিয়াল কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি যেন হয়ে উঠল বিদায় আর উৎসবের এক অনন্য মিশ্রণ। ম্যাচ শেষে ভক্তদের উল্লাস আর মেসির চোখের আর্দ্রতা স্পষ্ট করে দিল—এটি এক বিশেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি।
ম্যাচ শেষে মেসি বললেন, কণ্ঠে আবেগ মিশিয়ে, “এভাবে শেষ করা—এটাই সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল।” আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জিতল, যেখানে মেসি নিজেই দুটি গোল করেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলবেন কি না—এমন প্রশ্নে মেসির উত্তর ছিল বাস্তবসম্মত এবং সংক্ষিপ্ত: “দেখা যাক।”
তিনি বলেন, “আমি খেলতে চাই, একেবারেই অস্বীকার করছি না। তবে বয়সেরও তো একটা ব্যাপার আছে। প্রতিদিন দেখি কেমন লাগছে। ভালো লাগলে খেলব, না লাগলে থাকব না। এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।” নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতি সচেতনতার কথাও জানান তিনি, “ম্যাচ থেকে ম্যাচ, দিন থেকে দিন—আমি শরীরের কথা শুনছি। পুরো সিজন শেষ করে, প্রি-সিজনের পর বুঝব কেমন লাগছে।”
এমন সরলতা ও বাস্তববাদিতা মেসিকে আরও মানবিকভাবে ভক্তদের সামনে হাজির করেছে। এদিকে তিনি জানান, ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ কোয়ালিফায়ারে খেলবেন না। হয়তো এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনার মাটিতেই আইকনিক বিদায়ের ছাপ রেখে যেতে চাইলেন তিনি।
২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক, তারপর ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গল্প—এসবই মেসিকে দাঁড় করিয়েছে ইতিহাসের সেরা নায়কদের কাতারে। আজ বয়স, ফিটনেস আর পরিবারের বাস্তবতাকে সামনে রেখে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন সময় নিয়ে।
শেষ প্রশ্নে, ভক্তরা কি আরেকবার বিশ্বকাপে তাকে দেখতে চান—নাকি বিদায় মেনে নিতে প্রস্তুত? মেসির জবাব ছিল সংক্ষিপ্ত, মানবিক আর বাস্তব: “দেখা যাক।”



