ভারতে ভোট চুরি ও ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, তার হাতে এমন প্রমাণ রয়েছে যা প্রকাশ পেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের জনগণের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না।
রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, তার দল শিগগিরই ভোট চুরির প্রমাণ হিসেবে একটি “হাইড্রোজেন বোমা” প্রকাশ করবে। তার মতে, এই প্রমাণ প্রকাশ হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হবেন। বিহারের পাটনায় ভোটাধিকার যাত্রার সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল আসনে সরাসরি ভোট চুরি হয়েছে। কংগ্রেস ইতোমধ্যে প্রমাণ দিয়েছে যে বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা বিধানসভা এলাকায় কীভাবে ভোট চুরি সংঘটিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, রাহুলের কথা শুনে বোঝা মুশকিল তিনি আসলে কী বলতে চাইছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পরমাণু বোমা আর হাইড্রোজেন বোমার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক কোথায়? বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিজেকে কেন ছোট করছেন?”
এর আগে, গত ৭ আগস্ট রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, তার দল ছয় মাস ধরে মহাদেবপুরা আসনের ভোটার তালিকা পরীক্ষা করেছে এবং সেখানে এক লাখের বেশি অনিয়ম পাওয়া গেছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, ওই তালিকায় ১১ হাজার ৯৬৫ জনের নাম ডুপ্লিকেট, ৪০ হাজার ৯ জন ভোটারের ঠিকানা ভুয়া বা অকার্যকর, ১০ হাজার ৪৫৪ জন এক ঠিকানায় নিবন্ধিত, ৪ হাজার ১৩২ জনের ছবি অকার্যকর এবং ৩৩ হাজার ৬৯২ ভোটারের ক্ষেত্রে ফরম-৬ এর অপব্যবহার হয়েছে। ফরম-৬ হলো নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদনপত্র।
কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মহারাষ্ট্র নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করেছে বিজেপি। ওই নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করলেও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আগাড়ি জোট পরাজিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ১৪ আগস্ট কমিশন রাহুলের দাবি “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” বলে আখ্যা দেয়। এর আগেও, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশন বলেছিল, ভোটের ফলাফল নিয়ে হতাশ রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ সম্পূর্ণ হাস্যকর।



