হকি এশিয়া কাপে এবারের আসরে দেখা যাবে বাংলাদেশকে। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে শেষ মুহূর্তে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। আর সেই শূন্য জায়গাতেই আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান জানান, “আমরা আজ এশিয়ান হকি ফেডারেশন থেকে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এশিয়া কাপে অংশ নেবে। প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।”
আসলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা। সেই কারণেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে ১৪ আগস্ট থেকেই মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে। কোচ মশিউর রহমানের অধীনে অনুশীলন করছে অনূর্ধ্ব–২১ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১০ জন ও সিনিয়র দলের ১৮ জন খেলোয়াড়।
১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু হওয়া হকি এশিয়া কাপে প্রতিটি আসরেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এবারের এএইচএফ কাপে ফাইনালে উঠতে না পারায় সরাসরি খেলার সুযোগ মেলেনি। সোহানুর রহমান-পুষ্কর খিসাদের দল ছিল তৃতীয় স্থানে। পাকিস্তানের নাম প্রত্যাহারের কারণেই খুলে গেল এশিয়া কাপে খেলার নতুন দরজা।
১২তম এশিয়া কাপ বসবে ভারতের রাজগিরে, ২৯ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে সফল দল—পাঁচবার তারা শিরোপা জিতেছে। এবারের আসরে অংশ নেবে আটটি দেশ: ভারত, বাংলাদেশ, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান ও চাইনিজ তাইপে।
এই এশিয়া কাপ শুধু আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং ২০২৬ হকি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বও। আগামী বছর বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডে বসবে সেই বিশ্বকাপ। তাই এবারের শিরোপা মানেই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট।
বাংলাদেশ কখনোই হকি এশিয়া কাপে সেমিফাইনালের বাধা পেরোতে পারেনি। তবে পাকিস্তানের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া লাল-সবুজের ছেলেদের জন্য যেন নতুন এক অনুপ্রেরণা। এবার কি ইতিহাস গড়তে পারবে তারা? সমর্থকদের দৃষ্টি এখন রাজগিরের মাটিতে।



