ত্বকের যত্নের কথা উঠলেই আমাদের মনে পড়ে দামি ক্রিম, ফেসপ্যাক বা পার্লারের ট্রিটমেন্টের কথা। কিন্তু জানেন কি, উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বকের গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে প্রকৃতির মধ্যেই? আমাদের আশপাশে এমন অনেক সাধারণ ফল রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত খেলে ও প্রয়োজনে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক ভেতর থেকে পুষ্টি পায়, হয় নরম, কোমল ও দীপ্তিময়। বাংলাদেশে সহজলভ্য এমন পাঁচটি ফল সম্পর্কে জেনে নিন—
১. কলা – প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার
কলা ভিটামিন সি, বি-৬, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও বায়োটিন সমৃদ্ধ, যা ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখে এবং বার্ধক্য বিলম্বিত করে। একটি পাকা কলা চটকে মধু বা দই মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক হয় নরম ও হাইড্রেটেড। তবে খাওয়ার মাধ্যমে উপকার বেশি পাওয়া যায়।
২. কমলা – উজ্জ্বল ত্বকের সাইট্রাস সঙ্গী
কমলাতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে, যা কোলাজেন তৈরি করে ত্বককে টানটান রাখে ও বলিরেখা কমায়। শুকনো কমলার খোসার গুঁড়া ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, দাগ হালকা করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে। প্রতিদিন একটি কমলাই মেটাতে পারে দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদা।
৩. টমেটো – বয়স রোধে সহায়ক
টমেটো ভিটামিন এ, সি ও কে সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে, রোদে পোড়া দাগ হালকা করে ও রোমছিদ্র ছোট করে। এতে থাকা লাইকোপেন সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। কাটা টমেটো সরাসরি মুখে ঘষে নিলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল হয়।
৪. পেঁপে – মসৃণ ও কোমল ত্বকের জন্য
পেঁপেতে ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স থাকে, যা ত্বক হাইড্রেট করে ও মসৃণ করে তোলে। পেঁপের ‘পাপেইন’ এনজাইম মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগালে দাগ কমে এবং ত্বক হয় তরুণ ও উজ্জ্বল।
৫. আপেল – সর্বাঙ্গীণ রূপচর্চার ফল
আপেলে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বক টানটান রাখে, আর ভিটামিন এ ও কপার ত্বকের রঙ উন্নত করে। এটি শরীরের ভেতরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিয়ে ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে। পাশাপাশি চুল ঘন ও সুন্দর করে এবং খুশকি কমায়।
ত্বকের যত্নে শুধু বাইরের যত্ন নয়, ভেতর থেকেও পুষ্টি দেওয়া জরুরি। এই পাঁচটি দেশীয় ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন, আর চাইলে ঘরোয়া ফেসপ্যাক হিসেবেও ব্যবহার করুন—প্রাকৃতিকভাবে, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বক হয়ে উঠবে দীপ্তিময়।



