গ্রীষ্মের তাপদাহে স্বস্তির জন্য ডাবের পানির তুলনা নেই। প্রাকৃতিক এই পানীয় শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে, ক্লান্তি কমায় এবং অনেকের মতে এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সও। তবে প্রশ্ন হলো—ডাবের পানি কি সবার জন্যই নিরাপদ ও উপকারী?
কাদের জন্য ডাবের পানি ঝুঁকিপূর্ণ?
১. কিডনি রোগীদের জন্য নয়:
ডাবের পানিতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে জমে গিয়ে হাইপারক্যালেমিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এতে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, দুর্বলতা, বমিভাব এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট পর্যন্ত হতে পারে। তাই কিডনি রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডাবের পানি পান করা উচিত নয়।
২. ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন:
এক কাপ ডাবের পানিতে থাকে ৬–৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সীমিত পরিমাণে ও খালি পেটে না খাওয়াই উত্তম।
৩. ওজন সচেতনদের জন্য ক্যালোরি বিবেচনায় রাখা জরুরি:
মাঝারি এক ডাবের পানিতে থাকে প্রায় ৫০–৬০ ক্যালোরি। যারা ডায়েট করছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত ডাবের পানি খাওয়া ক্যালোরি ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
৪. শারীরিক পরিশ্রম বা ওয়ার্কআউটের পর একমাত্র সমাধান নয়:
ডাবের পানিতে পটাশিয়াম থাকলেও সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণে এটি যথেষ্ট নয়। তাই অতিরিক্ত ঘাম ঝরানোর পর খাবার স্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট পানীয় বেশি উপকারী।
৫. যাদের নারকেল বা বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে:
ডাবের পানিও নারকেলজাত উপাদান, তাই বাদামে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তির শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—চুলকানি, ফুসকুড়ি, চোখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, এমনকি শ্বাসকষ্টও।
কারা নিশ্চিন্তে ডাবের পানি পান করতে পারবেন?
যাদের শরীরে কোনো জটিলতা নেই, যেমন—ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যজনিত অসুবিধা, তারা ডাবের পানি নিশ্চিন্তে পান করতে পারেন। গরমে অতিরিক্ত ঘাম, জ্বর বা দুর্বলতার সময় এটি দ্রুত শরীরকে আর্দ্রতা ও প্রয়োজনীয় খনিজে ভরিয়ে দিতে সক্ষম।
তবে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বা দীর্ঘমেয়াদে ডাবের পানি পানের পরিকল্পনা থাকলে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। না হলে উপকারের পরিবর্তে তা ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।



