বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ক্লাবগুলোর একটি বসুন্ধরা কিংস। ২০১৮ সালে পথচলা শুরু করে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্লাবটি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক সাফল্য থাকলেও, বর্তমানে ক্লাবটি কঠিন সময় পার করছে মাঠের বাইরে। কারণ, সাবেক দুই বিদেশি কর্মকর্তা—রোমানিয়ান কোচ ভ্যালেরি তিতে এবং ফরাসি ফিটনেস ট্রেইনার খলিল চাকরৌন—বকেয়া অর্থ না পাওয়ায় ক্লাবটির বিরুদ্ধে ফিফায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফ্রান্সের নাগরিক খলিল বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, “গত পরশু আমি ফিফায় অভিযোগ করেছি। তারা বিষয়টি গ্রহণ করেছে এবং গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।” তার দাবী অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বেতন, ফেডারেশন কাপ ও চ্যালেঞ্জ কাপ জয়ের বোনাস, এবং বিলম্বে বেতন পরিশোধের জরিমানাসহ একটি বড় অঙ্কের অর্থ তার প্রাপ্য। একই অভিযোগ তুলেছেন রোমানিয়ান কোচ তিতেও।
খলিল আরও বলেন, “ঢাকা ছাড়ার সময় ক্লাব ম্যানেজার ওয়াসিম আমাদের বলেছিলেন যে দ্রুত অর্থ পরিশোধ করা হবে। আমরা সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও ক্লাব থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় আমরা বাধ্য হয়ে ফিফার দ্বারস্থ হয়েছি।”
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড় বা কোচদের প্রমাণসাপেক্ষ বকেয়া পাওনা থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধে ক্লাবকে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ক্লাবের বিরুদ্ধে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা বা আরও কড়া শাস্তি আরোপ করা হতে পারে।
অল্প সময়েই দেশের ফুটবলে আধিপত্য বিস্তারকারী বসুন্ধরা কিংস এএফসি কাপে অংশগ্রহণসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান জানান দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক চুক্তিভিত্তিক ব্যর্থতা ও আর্থিক অস্থিরতা ক্লাবটির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জানা গেছে, ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্লাবটি সংশ্লিষ্টদের কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। সাবেক কোচ ও ট্রেইনারের অভিযোগ সম্পর্কে ক্লাব ম্যানেজার ওয়াসিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এদিকে শুধু বসুন্ধরা কিংস নয়, লিগের আরও কিছু ক্লাবও বকেয়া সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব এক উজবেক খেলোয়াড়ের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় ইতিমধ্যেই ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এ বিষয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসন্ন দলবদলে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে ওই ক্লাবগুলোর জন্য।



