ক্যানসার বা কর্কটরোগ হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনজনিত রোগসমূহের একটি সমষ্টি। এই প্রাণঘাতী রোগটি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ভয় কাজ করে, কারণ এখনো পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন অনেক ক্যানসারই প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে চিকিৎসাযোগ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্যানসার রোগীই শুরুতে ছোটখাটো উপসর্গকে অবহেলা করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। অথচ সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে রোগীদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এমন উপসর্গ অনুভব করেছেন যা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারত, কিন্তু মাত্র ২ শতাংশ বিষয়টি গুরুত্ব দেন। অনেকেই লজ্জা বা দ্বিধায় চিকিৎসকের কাছে যান না, যা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকদের মতে, ক্যানসারের কিছু সাধারণ উপসর্গ আছে, যেগুলোকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিচে ক্যানসারের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ তুলে ধরা হলো:
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলি, খাদ্যনালি বা ফুসফুসের ক্যানসারে এটি বেশি দেখা যায়।জ্বর
দীর্ঘস্থায়ী বা ঘন ঘন জ্বর, বিশেষ করে যখন ক্যানসার শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এটি সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো ক্যানসারেও জ্বর হয়।চরম ক্লান্তিভাব
বিশ্রামের পরেও না কমা ক্লান্তিভাব ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। লিউকেমিয়া, কোলন বা পাকস্থলির ক্যানসারে এটি দেখা দিতে পারে।ত্বকের পরিবর্তন
ত্বকের রঙের পরিবর্তন, হাইপারপিগমেন্টেশন, জন্ডিস, ত্বক লাল হওয়া, চুলকানি বা চুলের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।অন্ত্র ও মূত্রাশয়ের কার্যক্রমে পরিবর্তন
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন যেমন ব্যথা, রক্ত আসা ইত্যাদি কোলন, প্রোস্টেট বা মূত্রাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ।ক্ষত যা সারে না
যদি কোনো ক্ষত চার সপ্তাহ পার হলেও ভালো না হয়, তাহলে সেটি ত্বক বা মুখের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।দেহের কোনো স্থানে শক্ত ভাব বা গাঁঠ
স্তন, অণ্ডকোষ, গ্রন্থি বা নরম টিস্যুতে গাঁঠ বা মাংসপিণ্ড জমে থাকা অনেক সময় ক্যানসারের লক্ষণ।রক্তপাত
অস্বাভাবিক রক্তপাত যেমন কাশির সঙ্গে রক্ত, মলের সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি ফুসফুস বা মলাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।টানা কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা ভাঙাভাব থাইরয়েড বা স্বরযন্ত্রের ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে।গিলতে সমস্যা বা বদহজম
খাবার গিলতে সমস্যা, টানা বদহজম ইসোফ্যাগাস, পাকস্থলি বা গলার ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, উপরোক্ত প্রতিটি উপসর্গ ক্যানসার ছাড়াও অন্য অনেক কারণে দেখা দিতে পারে। কিন্তু যদি এসব উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হয় বা প্রকট আকার ধারণ করে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।



