হাত কাঁপা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত কাঁপা সাময়িক হলেও যদি তা দীর্ঘমেয়াদি বা নিয়মিত হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক সময় স্নায়বিক দুর্বলতা, দুশ্চিন্তা, পারকিনসন্স ডিজিজ কিংবা অন্যান্য স্নায়ুবিক ব্যাধির কারণে হাত কাঁপতে পারে।
এদিকে, ঘাড় ব্যথাও হতে পারে মারাত্মক কিছু রোগের লক্ষণ। যেমন—রুমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ে গভীর চোট, ক্যানসার, নার্ভ ও স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতি, ইনফেকশন, হাড়ের গঠনগত সমস্যা (Bone Disorder), ব্রেকিয়েল প্লেক্সাসে আঘাত অথবা টরটিকালিস। আবার স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তাও ঘাড় ব্যথার একটি সাধারণ কারণ হতে পারে।
যে কারণেই হোক, ঘাড় ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে কিছু নিয়মিত অভ্যাস ও ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। নিচে এমন কিছু কার্যকর টিপস তুলে ধরা হলো:
১) মাথা ঘুরিয়ে অনুশীলন:
প্রথমে মাথা সামনে ও পেছনে ঝোঁকান পাঁচবার করে। এরপর ডান ও বাঁ দিকে একবার করে ঘুরিয়ে নিন। পরে মাথা ক্লকওয়াইজ ও অ্যান্টিক্লকওয়াইজ ঘোরান ১০-১৫ বার। প্রথমে অল্প ব্যথা লাগতে পারে, তবে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। এই ব্যায়াম প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর করলে দ্রুত ঘাড় ব্যথা সেরে উঠবে।
২) নিয়মিত ম্যাসাজ:
সঠিক পদ্ধতিতে ঘাড়ে ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ঘাড় ব্যথা কমাতে জলপাই তেল, সরিষার তেল বা আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা যায়। হালকা গরম পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে একটি নরম কাপড় ভিজিয়ে ব্যথার স্থানে ৫ মিনিট ধরে রাখলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
৩) হট বা কোল্ড থেরাপি:
একটি কাপড় গরম বা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে ব্যথার স্থানে চেপে রাখুন। দিনে ৩-৪ বার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ব্যথা দ্রুত উপশম হতে পারে।
৪) কাজের ফাঁকে মাথা নিচু করা:
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে ঘাড়ে চাপ পড়ে। কাজের মাঝখানে মাথা নিচু করে অন্তত ৫ সেকেন্ড রাখলে ঘাড়ের পেশি বিশ্রাম পায় এবং ব্যথা কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে শুধু ঘাড় নয়, পিঠ ও কোমরেও ব্যথা হতে পারে। তাই ঘাড় সচল রাখতে কাজের মাঝখানেই ঘাড় কাত করে কিছুক্ষণ রাখুন। এতে ঘাড়ের ব্যথার পাশাপাশি পিঠ ও কোমরের ব্যথাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।



