ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও রিশাদ হোসেনের পরিচিতি ছিল প্রতিভাবান লেগ স্পিনার হিসেবে। যখন বাংলাদেশ জাতীয় দলে একজন কার্যকর লেগ স্পিনারের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছিল, তখনই জাতীয় দলে সুযোগ পান তরুণ রিশাদ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এমনকি বিগ ব্যাশের মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকেও ডাক পান তিনি। বর্তমানে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে তিনি হয়ে উঠেছেন অপরিহার্য এক সদস্য।
২০২৩ সালের মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল তার। অনেকটা জুয়ার মতো সিদ্ধান্ত হলেও, সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে সফল এক বাজি। রিশাদ এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৪০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যেখানে শিকার করেছেন ৪৮টি উইকেট।
এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বড় অর্জনের সুযোগ। আর মাত্র ২ উইকেট পেলেই তিনি সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্রুততম ৫০ উইকেট শিকারির রেকর্ড গড়বেন। সাকিবকে এই কীর্তি অর্জনে খেলতে হয়েছিল ৪২ ম্যাচ। এই তালিকায় সবার উপরে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি মাত্র ৩৩ ম্যাচেই ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেটের ক্লাবে আছেন পাঁচজন—মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শেখ মেহেদী। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুততম ৫০ উইকেটের রেকর্ডের দৌড়ে তারা কেউই খুব এগিয়ে নেই। মাত্র ২২ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন বতসোয়ানার ধ্রুবকুমার মাইসুরিয়া। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এই রেকর্ডের মালিক শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রিশাদের ফর্ম কিছুটা নিম্নমুখী। শেষ তিন ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন মাত্র একটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে তার খেলা অনিশ্চিত। কারণ সিরিজ ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হওয়ায় তাকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে দেখা যেতে পারে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে।



