বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত দুই ব্যক্তিত্ব—যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্য। অথচ কিছুদিন আগেও দুজনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্ব আরও ঘনীভূত হয়েছে, যখন জানা গেল মাস্ক ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের জেরে নিজের ফোন নম্বরই বদলে ফেলেছেন।
এই তথ্য সামনে এনেছেন মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসন। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও নিউইয়র্ক পোস্ট-এ স্পিকারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, “ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়ে চলমান বিরোধের সময় আমি ইলন মাস্ককে একটি বার্তা পাঠাতে চেয়েছিলাম। পরে বুঝতে পারি, তিনি তার ফোন নম্বর পরিবর্তন করে ফেলেছেন।”
উল্লেখ্য, ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত একটি বাজেট ও কর বিল ধনীদের করছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট আনে। শুরু থেকেই মাস্ক এই বিলের বিরোধিতা করে আসছেন। বিলটিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পরপরই মাস্ক ‘নিউ আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর থেকে ট্রাম্প-মাস্ক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
স্পিকার জনসনের মতে, বিলের পর থেকে মাস্ক আর ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখেননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফোন নম্বর পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নিছক ব্যক্তিগত নয়; বরং এটি মার্কিন রাজনীতিতে মাস্কের অবস্থান এবং ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবেরই ইঙ্গিত বহন করে।
বিশ্ব রাজনীতিতে যখন প্রযুক্তি, পুঁজি ও ব্যক্তিপ্রভাব ক্রমেই জোরদার হচ্ছে, তখন এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



