দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে নির্ধারিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচের তারিখ। কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো জয়ী স্পেনের মধ্যকার এই মহারণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের মার্চে। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে এই ম্যাচ আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোমাঞ্চের মাত্রা আরও বাড়াবে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ২০২৬ সালের ১৭ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ৭৫তম ফিফা কংগ্রেসে ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া ও রাফায়েল লাওসানের মধ্যকার বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তবে এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—স্পেনকে অবশ্যই বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে হবে। যদি তারা গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে সেই সময় তাদের প্লে-অফ খেলতে হবে, ফলে ফিনালিসিমা আয়োজন সম্ভব হবে না।
তবে স্পেনের বর্তমান গ্রুপে তুরস্ক, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো দল থাকায় এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় স্পেনের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনাই বেশি। এদিক দিয়ে ফিনালিসিমা আয়োজনের আশাই করছে উভয় দেশ।
ম্যাচের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে কাতার ও সৌদি আরবের নাম। বিশ্বকাপের আগে একটি বিলাসবহুল স্টেডিয়ামে ‘ওয়ার্ম-আপ’ ম্যাচ হিসেবে তারা ফিনালিসিমা আয়োজন করতে চায় এবং এ জন্য ইতিমধ্যেই আকর্ষণীয় প্রস্তাবও দিয়েছে।
২০২২ সালের ফিনালিসিমার মতো এবারও ম্যাচটি বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত হবে। গতবার আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। এবার প্রতিপক্ষ আরও শক্তিশালী—ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এই ম্যাচে সম্ভবত মুখোমুখি হবেন বর্তমান সময়ের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল। এ কারণেই ম্যাচটি হয়ে উঠেছে আরও মর্যাদাসম্পন্ন ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত।
বিশ্বকাপের আগে এটি হতে পারে আর্জেন্টিনার শেষ বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অনেকেই আশা করছেন, এই ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে আবারও নেতৃত্ব দেবেন লিও মেসি। অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ দল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করে নেবে।
ভেন্যু ও নির্দিষ্ট সময় এখনও নির্ধারিত না হলেও নিশ্চিত হয়ে গেছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে মেসি বনাম ইয়ামাল, আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ঐতিহাসিক ফিনালিসিমার দিকে।



