২০০৭ সালে যুবরাজ সিংয়ের ঐতিহাসিক ছয় ছক্কার পর যেন পুরো ক্রিকেটবিশ্ব থমকে গিয়েছিল। সেই ঘটনা এবার নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন বুলগেরিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটার মানান বশির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরে তিনি নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়।
ঘটনাটি ঘটে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে, যেখানে অংশ নেয় বুলগেরিয়া, জিব্রাল্টার এবং মাল্টা। ভেন্যু ছিল সোফিয়ার ন্যাশনাল স্পোর্টস একাডেমি। ইনিংসের ১৬তম ওভারে জিব্রাল্টার অধিনায়ক ইয়ান লাটিন বল তুলে দেন কবির মিরপুরির হাতে। আর সেই ওভারেই মানান বশির মেরে বসেন ছয়টি টানা ছক্কা—প্রতিটি বল উড়ে যায় বাউন্ডারির বাইরে।
বশিরের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন ওপেনার ইসা জারু, যিনি এর আগেই ম্যাচে দারুণ ছন্দে ছিলেন। তবে শেষের দিকে এসে মাত্র ৯ বলে ৪৩ রান করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বশির। তাঁর এই ইনিংস বুলগেরিয়ার জয়কে নিশ্চিত করে তোলে।
এই কীর্তির মাধ্যমে মানান বশির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় ছক্কার ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নিলেন সেই মর্যাদাসম্পন্ন তালিকায়, যেখানে আছেন:
হার্শেল গিবস (২০০৭, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে)
যুবরাজ সিং (২০০৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)
কাইরন পোলার্ড (২০২১, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে)
জাসকারণ মালহোত্রা (২০২১, পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে)
দীপেন্দ্র সিং আইরী (২০২৪, কাতারের বিপক্ষে)
মানান বশির (২০২৫, জিব্রাল্টারের বিপক্ষে)
প্রথমে ব্যাট করে জিব্রাল্টার সংগ্রহ করে ২০ ওভারে ১৯৪ রান, যেখানে ফিলিপ ও মাইকেল রেইকস দারুণ ইনিংস উপহার দেন। বুলগেরিয়ার পক্ষে প্রকাশ মিশ্র ৩টি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের গতি রোধ করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বুলগেরিয়া ঝড়ো সূচনা পায় ক্রিস লাকভ ও ইসা জারু-এর ব্যাটে। আর শেষের দিকে বশিরের টর্নেডো ব্যাটিং পুরো ম্যাচটাই নিয়ে নেয় নিয়ন্ত্রণে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই জিতে নেয় ফাইনালটি, আর সেই সঙ্গে বুলগেরিয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে যোগ হয় এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।



