গরমের তীব্রতায় অনেকেই ঠান্ডা পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন—ঠান্ডা পানি কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? কেউ বলেন এতে গলা ব্যথা হয়, কেউ আবার দাবি করেন হজমে সমস্যা তৈরি করে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের মতামত কী, তা উঠে এসেছে স্বাস্থ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে।
ঠান্ডা পানির সম্ভাব্য ক্ষতি
অনেকের মতে, ঠান্ডা পানি পাকস্থলীর পেশি সংকুচিত করে, ফলে হজমে সমস্যা হয়। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও দৃঢ় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি, তবে যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলা নিরাপদ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
১৯৭৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পানি নাকের শ্লেষ্মাকে ঘন করে তোলে, ফলে তা সহজে বের হতে পারে না। তাই ঠান্ডা বা ফ্লু থাকলে ঠান্ডা পানি খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রেও ঠান্ডা পানি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় ঠান্ডা পানি মাইগ্রেনকে ট্রিগার করে বা মাথাব্যথা বাড়িয়ে দেয়।
২০১২ সালের আরেক গবেষণা বলছে, যারা আক্যালেসিয়া রোগে ভোগেন—অর্থাৎ যাদের গিলতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য ঠান্ডা পানি পান করা গলার ব্যথা ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
ঠান্ডা পানির উপকারিতাও আছে
তবে সবকিছুরই যেমন নেতিবাচক দিক আছে, তেমনি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঠান্ডা পানি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের সময় ঠান্ডা পানি পান করলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়, ক্লান্তি কমে এবং পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পায়।
ঠান্ডা পানি হজমের সময় শরীর তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ঠিক রাখতে অতিরিক্ত কিছু ক্যালোরি খরচ করে। যদিও এই ক্যালোরি বার্ন খুব বেশি নয়, তবুও এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে একটি ক্ষুদ্র সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া চিনিযুক্ত পানীয় বা সফট ড্রিংকের তুলনায় ঠান্ডা পানি একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এতে অতিরিক্ত ক্যালোরি এড়িয়ে চলা যায় এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
গরম পানির সুবিধা
গরম পানি হজমে সহায়তা করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। তবে গরম পানি অতিরিক্ত খেলে তৃষ্ণা অনুভূতি কমে যায়, যা গরম আবহাওয়ায় ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে।
পানি পানের মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা। তাই পানি গরম হোক বা ঠান্ডা—ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও পরিবেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়। হজমে সমস্যা, মাইগ্রেন বা ঠান্ডা থাকলে ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলা উত্তম। অন্যদিকে, গরমে ঘেমে গেলে বা ব্যায়ামের পর ঠান্ডা পানি স্বস্তি দিতে পারে।



