শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলেও অনেক সময় তা প্রথমদিকে বোঝা যায় না। এই নীরব ঘাতক ধীরে ধীরে শরীরে ক্ষতি করতে থাকে এবং হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত রক্তে ২০০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি কোলেস্টেরল থাকলে তা উচ্চ কোলেস্টেরল হিসেবে ধরা হয়। যদিও রক্ত পরীক্ষাই এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেয়, তবু কিছু বাহ্যিক লক্ষণ ইঙ্গিত দিতে পারে শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার।
চোখের আশপাশে হলদেটে দাগ বা ফোলাভাব
চোখের পাতার চারপাশে হলদেটে ছোট দাগ বা সামান্য ফোলাভাব দেখা গেলে তা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির লক্ষণ হতে পারে। এগুলো সাধারণত ব্যথাহীন হয় এবং রক্তে অতিরিক্ত চর্বি জমার ইঙ্গিত দেয়।
কর্নিয়ার চারপাশে সাদা বা ধূসর বৃত্ত
চোখের কর্নিয়ার চারপাশে ধূসর বা সাদা রিং দেখা দিলে সেটি কর্নিয়াল আর্কাস নামে পরিচিত। এটি বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও ৪৫ বছরের কম বয়সে দেখা দিলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়েছে বোঝায়।
ত্বকে হলুদ দানা বা ফুঁসকুড়ি
চোখ, গাল, কনুই বা হাঁটুর পাশে ছোট হলদেটে দানার মতো ফুঁসকুড়ি দেখা দিলে তা জ্যান্থোমা হতে পারে। এটি রক্তে চর্বি বা লিপিডের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ।
ত্বকে হলদেটে ছোপ বা দাগ
মুখের ত্বক, বিশেষ করে চোখের আশপাশে হলদেটে দাগ দেখা দিলে সেটি জ্যান্থোডার্মার ইঙ্গিত হতে পারে, যা কোলেস্টেরলের কারণে ত্বকের নিচে চর্বি জমার ফল।
ত্বকে নীলচে বা বেগুনি জালের মতো দাগ
যদি শরীরের ত্বকে নীল বা বেগুনি জালের মতো দাগ দেখা যায়, তবে তা কোলেস্টেরল এমবোলিজম হতে পারে। এটি রক্তনালিতে কোলেস্টেরল আটকে গিয়ে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার লক্ষণ।
হঠাৎ করে ছোট গুটি বা ফুঁসকুড়ির গুচ্ছ
মুখ, বাহু বা নিতম্বে হঠাৎ ছোট ছোট লাল বা হলুদ গুটির মতো গুচ্ছ দেখা দিলে তা বিস্ফোরিত জ্যান্থোমার লক্ষণ। এই অবস্থায় ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা খুব বেশি থাকে, যা মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে।
পরামর্শ
উল্লিখিত কোনো উপসর্গ দেখা গেলে দেরি না করে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করান এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ নিয়ন্ত্রণহীন কোলেস্টেরল ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে।



