বর্তমান বাংলাদেশে হৃদরোগ একটি সাধারণ কিন্তু ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজাল খাবার, ব্যস্ত জীবনধারা এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে প্রতিদিন বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। তবে আশার কথা হলো—সুস্থ হৃদয়ের জন্য খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সবচেয়ে বড় ও কার্যকরী অস্ত্র।
বিজ্ঞান বলছে, আমরা কী খাচ্ছি, তার উপর নির্ভর করে আমাদের হৃদয়ের সুস্থতা। সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিয়ে সহজেই নিজের হার্টের যত্ন নেয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন কিছু বাংলাদেশে সহজলভ্য ও হৃদয়বান্ধব খাবারের নাম, যেগুলো নিয়মিত খেলে আপনি নিজের হার্টকে রাখতে পারেন সুস্থ ও সবল।
১. মাছ (রুই, ইলিশ, পাবদা)
এইসব দেশীয় মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদয়কে রাখে সুস্থ। তবে ভাজা মাছ নয়, ঝোল, সেদ্ধ বা ভাপে রান্না করাই বেশি উপকারী।
২. ডাল (মসুর, মুগ, ছোলা)
ডালে থাকে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন। এটি খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। সপ্তাহে কয়েকদিন মাংসের বদলে ডাল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. শাক-সবজি (পুঁই, লাল শাক, কলমি শাক)
এই শাকগুলোতে থাকে ভিটামিন, পটাশিয়াম ও ফাইবার, যা রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদয়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। কম তেল ও কম লবণ দিয়ে রান্না করলেই পুষ্টিগুণ অটুট থাকবে।
৪. দেশীয় ফল (পেয়ারা, পেঁপে, কলা, আমলা)
এই ফলগুলোতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি, যা হৃদয়ের জন্য খুব উপকারী। চিপস বা মিষ্টির বদলে এসব ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৫. সরিষার তেল
সরিষার তেলে থাকে ভালো চর্বি (healthy fats) যা হার্টের জন্য উপকারী। তবে ব্যবহার করতে হবে পরিমিত পরিমাণে এবং অতিরিক্ত গরম না করে।
৬. লাল চাল
লাল বা আধা সিদ্ধ চালে থাকে বেশি ফাইবার, যা রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। ধীরে ধীরে সাদা চালের সঙ্গে লাল চাল মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৭. বাদাম ও বীজ (চিনাবাদাম, তিল, তিসি)
এগুলোতে থাকে ভালো চর্বি, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম, যা হার্টকে রাখে সুস্থ। লবণ ছাড়া হালকা ভাজা বাদাম এবং তিসি বীজ গুঁড়ো করে ভাত বা তরকারিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।
৮. রসুন ও হলুদ
রসুন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, আর হলুদে থাকে প্রদাহ কমানোর উপাদান। এগুলো প্রতিদিনের রান্নায় নিয়মিত ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যায়।
হার্ট ভালো রাখতে দামি বা বিদেশি খাবারের প্রয়োজন নেই। আমাদের ঘরের বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমন খাবার দিয়েই সম্ভব হৃদয়ের যত্ন নেয়া। একটু বুঝে খেলে, কম তেলে, কম লবণ আর কম ভাজা খাবার গ্রহণ করলেই আপনি নিজেকে রাখতে পারেন হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ।



