বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মান ফুটবল অঙ্গনের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালার ভয়াবহ ইনজুরি। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায় এবং একাধিক লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়, যার ফলে চার থেকে পাঁচ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে মুসিয়ালাকে।
ঘটনাটি ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষদিকে এক বল দখলের লড়াইয়ে পিএসজির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় মুসিয়ালার। ওই সংঘর্ষে তার পা গোড়ালির নিচে আটকে গিয়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, তার গোড়ালির হাড় ভেঙেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২২ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার এপ্রিলের পর এই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো বায়ার্ন একাদশে ফিরেছিলেন। তবে প্রত্যাবর্তনটা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। তার চোট সম্পর্কে জার্মান গণমাধ্যম ‘বিল্ড’ জানায়, পুরোপুরি সেরে উঠতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রয়েন্ড, যিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে বিষয়টি ভালো দেখাচ্ছে না। আমরা আশাবাদী ছিলাম, তবে এখন নিশ্চিত যে তাকে অনেক দিন পাবো না।’
ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতি দেখলে রক্ত গরম হয়ে যায়। মুসিয়ালা আমাদের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। আশা করছি সে আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
উল্লেখ্য, সদ্য মুসিয়ালাকে বায়ার্নের ১০ নম্বর জার্সি প্রদান করা হয়, বিদায়ী তারকা লেরয় সানের উত্তরসূরি হিসেবে। তাই এই ইনজুরি শুধু বায়ার্নের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা নয়, বরং একজন উদীয়মান বিশ্বতারকার ক্যারিয়ারেও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে।
এদিকে, পিএসজির বিপক্ষে ২-০ গোলে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বায়ার্ন ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। আগামী মৌসুম (২০২৫-২৬) শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। তবে মুসিয়ালার অনুপস্থিতি তাদের পরিকল্পনায় একটি গুরুতর শূন্যতা তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
এখন সকলের নজর থাকবে—এই প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়াবিদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর পথে।



