খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে অনেকেই খাবারের প্রতি সংযত থাকেন একটাই আশঙ্কায়—ওজন যেন না বেড়ে যায়। কেননা অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে শরীরে বাড়ে নানা রকম রোগের ঝুঁকি। আবার মুখরোচক অনেক খাবারই শরীরের জন্য তেমন উপকারী নয়, বরং ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে ভোজনরসিকদের জন্য সুখবর হলো, কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনি নির্দ্বিধায় ইচ্ছেমতো খেতে পারেন। এসব খাবার শুধু ওজন বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্য নানা উপকারও করে। চলুন জেনে নিই সেইসব উপকারী ওজন-নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবারের কথা।
শসা:
ওজন কমাতে শসা অত্যন্ত কার্যকর একটি খাবার। এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম, আর পানি ও ফাইবারে ভরপুর। তাই চাইলে আপনি যত খুশি শসা খেতে পারেন, ওজন বাড়ার আশঙ্কা নেই।
বেগুন:
বেগুন শুনে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। তবে কম তেলে ভাজা বা ভর্তা করে খাওয়া বেগুন শরীরের ক্ষতি করে না। বরং এতে রয়েছে মাত্র ২৪ ক্যালরি, যা একে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক করে তোলে।
কমলা:
কমলায় রয়েছে প্রচুর আঁশ এবং ভিটামিন-সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক এবং হজম প্রক্রিয়াকেও উন্নত করে। ফলে নির্ভার হয়ে কমলা খাওয়া যায়।
তরমুজ:
পানিসমৃদ্ধ এই ফলটি গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর। তরমুজে খুব কম ক্যালরি থাকায় সারাদিন ধরে খানিক খানিক করে খেয়েও ওজন বাড়ার ভয় নেই।
খই ও পপকর্ন:
মাখন ও চিনি ছাড়া হালকা লবণ দিয়ে ভাজা খই বা পপকর্ন ওজন বাড়ায় না। এক কাপ মাখনবিহীন পপকর্নে থাকে মাত্র ৩১ ক্যালরি। এটি হালকা নাশতা হিসেবে বেশ উপযোগী।
বিটরুট:
অনেকের কাছে বিটরুটের স্বাদ খুব প্রিয় না হলেও এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। সিদ্ধ করে বা সালাদের মতো তৈরি করে বিটরুট ইচ্ছেমতো খাওয়া যায়, ওজন বাড়ার চিন্তা ছাড়াই।
ডিম:
ডিম হলো একটি পরিপূর্ণ প্রোটিনের উৎস। বিশেষ করে সিদ্ধ ডিম খুব উপকারী। এটি খেলে পেট ভরে এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা পায় না, অথচ ওজন বাড়ায় না।
আপেল:
একটি আপেলে থাকে মাত্র ৫০ ক্যালরি। এটি আঁশে ভরপুর, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরাট রাখতে সাহায্য করে। সকালে বা বিকালে আপেল খাওয়া হতে পারে একেবারে আদর্শ।
লেটুসপাতা:
প্রচুর পানি এবং অল্প ক্যালরি থাকার কারণে লেটুসপাতা ওজন নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকর। এক গোছা লেটুসপাতাতে থাকে মাত্র ৩ ক্যালরি, যা স্যালাডে খাওয়া যেতে পারে প্রতিদিন।
স্ট্রবেরি:
সুস্বাদু এই ফলটি হজমের জন্য উপকারী এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে সহায়ক। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের জন্য নানা ভাবে উপকার করে।



