গরমের মৌসুমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সব বয়সী মানুষ। তবে শিশু-কিশোরদের জন্য এই সময়টা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত ঘামের ফলে ক্লান্তি, বমি, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, পেটের সংক্রমণ—এসব সমস্যা দ্রুত দেখা দিতে পারে। ফলে শিশুদের সুস্থ রাখতে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার পাশাপাশি মজাদার আউটডোর গেম শিশুদেরকে রাখবে ফিট ও প্রাণবন্ত।
স্ক্রিন টাইম কমাতে খেলাধুলা
বর্তমানে শিশুরা অধিকাংশ সময় ভিডিও গেম, ইউটিউব বা টিভি দেখতে ব্যস্ত থাকে। তাদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে হলে বাইরের মজাদার খেলাগুলোর বিকল্প নেই। যেমন ব্যাডমিন্টন, দড়ি লাফানো, হপস্কচ, পিকলবল, বাস্কেটবল, রোলার স্কেটিং, টেনিস, সাঁতার, ট্রাম্পোলিন জাম্পিং এবং যোগব্যায়াম। এই গেমগুলো শুধু আনন্দই দেয় না, বরং শিশুর সহনশীলতা, সমন্বয়, মনোযোগ ও সামাজিক দক্ষতা উন্নত করে।
গরমে খেলাধুলার উপকারিতা
বাইরের খেলাধুলা শিশুদের শুধু শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে না, বরং মানসিক সুস্থতা ও আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। এটি স্ট্যামিনা বাড়ায়, সামাজিকভাবে একত্রে কাজ করার মনোভাব তৈরি করে এবং অবসাদ দূর করে। যোগব্যায়াম ও সাঁতারের মতো খেলাধুলা শিশুর মনের প্রশান্তি ও একাগ্রতা বাড়াতেও দারুণ কার্যকর।
গরমে শিশুর খাবারে নজর দিন
এই সময় শিশুর খাদ্যাভ্যাসে আনতে হবে পরিবর্তন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ানো উচিত। স্কুলে পাঠানোর আগে ভারী বা তেল-মসলাযুক্ত খাবারের বদলে দেওয়া যেতে পারে দুধ-কর্নফ্লেক্স, দই-চিড়া, ডিম সেদ্ধ বা হালকা ভাত। সঙ্গে দিতে হবে দুটি পানির বোতল—একটিতে সাধারণ পানি, আরেকটিতে গ্লুকোজ পানি। টিফিনে ফল রাখতে হবে, ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে দেওয়া যেতে পারে ঘরে তৈরি স্যান্ডউইচ, চিড়ার পোলাও বা উপমা।
বাড়ি ফিরে শিশুকে হালকা খাবার ও এক বাটি দই খাওয়ানো ভালো। সন্ধ্যায় সুজি, চিড়া বা মাখনের মতো সহজপাচ্য খাবার দেওয়া যেতে পারে। রাতের খাবারে থাকা উচিত ভাত, ডাল, সবজি ও হালকা মাংস বা মাছ।
গ্রীষ্মের তাপ শিশুদের জন্য কষ্টকর হলেও সচেতন অভিভাবকরা সঠিক খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি এবং মনোমুগ্ধকর আউটডোর গেমের মাধ্যমে সন্তানকে রাখতে পারেন সুস্থ, ফিট ও আনন্দে ভরপুর।


