ফিফা র্যাঙ্কিং দিয়ে যে সব সময় মাঠের পারফরম্যান্স বিচার করা যায় না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা বাহরাইনকে উইমেন্স এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ঋতুপর্ণা-তহুরারা।
মিয়ানমারের ইয়াংগুনে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার শটেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়, এই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোন সুযোগ দিতে রাজি নয় লাল-সবুজের দল। ১০ মিনিটেই গোলের সূচনা করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে চিপ শটে গোল করেন তিনি।
১৫ মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঋতুপর্ণা। এরপর একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাহরাইন। প্রথমার্ধেই আসে আরও তিন গোল। মারিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে একটি গোল করেন কোহাতি কিসকু। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জোড়া গোল করেন তহুরা খাতুন।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা রক্ষণ সামলে খেললেও গোলের ক্ষুধা থেমে থাকেনি। আরও দুটি গোল করে পূর্ণতা পায় তাদের দাপুটে জয়। পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল, পাসিং, প্রেসিং—সবকিছুতেই ছিল বাংলাদেশের নারীদের নিয়ন্ত্রণ ও ছন্দময় ফুটবল।
ম্যাচের আগের দিন কোচ পিটার বাটলার বলেছিলেন, দল আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। আর খেলোয়াড়রা শুধু আত্মবিশ্বাসই দেখায়নি, সেটাকে রূপ দিয়েছে গোল–উৎসবে।
এই জয় কেবল বড় ব্যবধানে পাওয়া এক ম্যাচজয় নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, সামর্থ্য ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার বার্তা। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও মাঠে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জানিয়ে দিলো—এশিয়ার নারী ফুটবলের মানচিত্রে তারা এখন আর পেছনের সারিতে নেই। বরং সামনে এগিয়ে চলার নামই বাংলাদেশ।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও যদি এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়, তবে ইতিহাস সৃষ্টি এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।



